ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে একটি শত্রুভাবাপন্ন মার্কিন প্রশাসনের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক সহায়তা ও কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অবস্থান সুরক্ষায় ভারত ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক মিত্রতা গড়ে তোলা খুবই জরুরি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এই মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন পাওয়া মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আসে। ট্রাম্প ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পুনঃনির্বাচনি লড়াইয়ের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ মার্কিন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতানিয়াহু প্রশ্ন তোলেন, “দুই বছর পর এমন একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসতে পারেন, যিনি ইসরায়েলের প্রতি অত্যন্ত শত্রুভাবাপন্ন। তখন আপনি কীভাবে এর মোকাবিলা করবেন? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি কীভাবে কাজ করবেন? এবং এর বাইরে গিয়ে আর কী কী সমাধান প্রয়োজন হবে?”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নীতিতে সম্ভাব্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি তেল আবিবকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির অবশিষ্ট বছরগুলোকে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি বলেন, “প্রথমত, আমেরিকান অঙ্গনে ভালো ও খারাপ- সব সময়েই এই দুই বছরে এবং পরবর্তী দুই বছরে আমরা যা করতে পারি, আমাদের তা করতে হবে।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “দ্বিতীয় বিষয়টি হলো অন্যান্য মিত্রতা গড়ে তোলা। আমাদের অঞ্চলের এবং অঞ্চলের বাইরের অনেক দেশের সঙ্গেই আমি এখন এটি নিয়ে কাজ করছি।”
এসময় ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “ভারত কোনো ছোট দেশ নয় এবং আরো অনেকে রয়েছে।” তিনি ইসরায়েলের মিত্রদের নেটওয়ার্ক প্রসারিত করার আরেকটি সুযোগ হিসেবে ল্যাটিন আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করেন।
নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, “ল্যাটিন আমেরিকায় একটি বড় পরিবর্তন ঘটছে এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ব্রাজিলে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে পারে।” তিনি যোগ করেন, “আমাদের বন্ধু ও মিত্রদের পরিধি বাড়াতে হবে ও এমন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে যা সবার কাছে আমাদের মূল্যবান করে তোলে।”
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান কোণঠাসা অবস্থা এড়াতে এবং নিজ সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রমাণ দিতে ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা নেতানিয়াহু এই প্রথম টেনে আনলেন তা নয়।
দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈধতা হারানো ও মিত্রতা সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে গত মে মাসে এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ভারতের মতো একটি বিশাল শক্তির সঙ্গে ইসরায়েলের ‘অনন্য সম্পর্ক’ রয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের জন্য ‘খাঁটি প্রেম’ রয়েছে।
ইসরায়েলের অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের কারণ হলো বিগত বছরগুলোতে নেতানিয়াহুর নেওয়া কিছু ভুল সিদ্ধান্ত।
বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে বিশ্লেষকরা জানান, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বাধীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক প্রায়ই উত্তপ্ত থাকত, যা তিনি তার সমর্থকদের কাছে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো একজন শক্তিশালী নেতার সাহসিকতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
