পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত। হরমুজ়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় বিশ্ব জুড়েই ছড়িয়েছে উদ্বেগ। রবিবার ওমানে পর পর দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনায় নতুন করে নতুন করে তুঙ্গে উত্তেজনা। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভারত। হামলার শিকার দুই জাহাজেই ছিলেন ভারতীয় নাবিকরা। এর পরেই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মহসিন রেজ়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সোমবার, ১২ অক্টোবর দুই দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের মধ্যে এই কথোপকথন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-ইরানের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের দূতাবাস।
সেপ্টেম্বরেই ব্রিক্স সম্মেলনের জন্য দিল্লিতে এসেছিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। তাঁর ভারত সফরের এক মাসের মধ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডোভালের সঙ্গে মহসিনের সঙ্গে বার্তালাপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। হরমুজ় প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগেও বারংবার নয়াদিল্লি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বিবদমান দেশগুলির কাছে এই হামলা বন্ধের অনুরোধ করেছে। যদিও সোমবার ডোভাল ও রেজ়াইয়ের কথোপকথনে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে ভারতের তরফে বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
রবিবার, ১১ অক্টোবর, নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি পেট্রো ডলফিন হামলার মুখে পড়ে। জাহাজে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ন’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দু’জন এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
একই দিনে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের তেলবাহী জাহাজ এমটি ভালথেরা-তেও হামলার ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় একটি প্রজেক্টাইল আছড়ে পড়ার পরে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এই দুই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে, ৯ অক্টোবর, শারজার উপকূলবর্তী এলাকায় পানামার অপর একটি তেলবাহী জাহাজ এমটি জেম নম্বর ২ ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। জাহাজটিতে ২২ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাঁরা সকলেই নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের জেরে এর আগেও ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জাহাজ চলাচল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ় প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তায় তৎপর নয়াদিল্লি
পরপর জাহাজে হামলার ঘটনায় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার উপরেও জোর দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। এই ধরনের হামলা ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা ভারতের।
