Published on
:
3 min read
বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বাস্তব পুরোটাই আলাদা। স্বামী সর্বক্ষণ মায়ের সঙ্গে থাকে। সব বিষয়ে তিনি মায়ের উপর নির্ভরশীল। অফিস থেকে ফিরে মায়ের সঙ্গেই গল্প করে। মায়ের হাতের রান্না ছাড়া খান না। স্ত্রীকে সেই অর্থে সময়-ই দেন না। শাশুড়িও ছেলেকে হারানোর ভয়ে বউমার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেন না। অন্যদিকে, আপনারও খুব একটা বনিবনা হয় না শাশুড়ির সঙ্গে। প্রায়শই ঝগড়া-ঝামেলা লেগে যায়। আর এই অশান্তির জেরে আপনার উপর মানসিক চাপ বাড়ছে এবং দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থা কী ভাবে শান্তিতে সংসার করবেন?
স্বামীর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন
শাশুড়ির সঙ্গে রোজ অশান্তি হলে স্বামীর সঙ্গে শান্ত ভাবে আলোচনা করুন। তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝুলি না খুলে, বরং তাঁদের কোন আচরণে আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করে বলুন। স্বামীকে বুঝতে হবে, মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং স্ত্রীর পাশে থাকা— দু’টি আলাদা বিষয়। দু’জনকেই সময় দেওয়া সম্ভব— এটা আপনার স্বামীকে বুঝতে হবে।
প্রতিযোগিতায় নামবেন না
স্বামী কার সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছেন, কাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উথবে। মনে রাখবেন, মা ও স্ত্রীর সম্পর্কের জায়গা আলাদা। শাশুড়িকে হারিয়ে স্বামীর জীবনে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা না করাই ভালো। তার চেয়ে দাম্পত্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর দিকে নজর দিন।
নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করুন
দাম্পত্যের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে শাশুড়ি যেন বার বার নাক গলায়, সে দিকে নজর দিন। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে নিজেদের অবস্থান বুঝিয়ে দিন শ্বশুর বাড়ির লোকেদের। সন্তানধারণ, আর্থিক সিদ্ধান্ত কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আপনাদেরই শুধু রয়েছে। তবে যা-ই বলবেন, শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান বজায় রেখে বলবেন।
সব দায়িত্ব একা নেবেন না
সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা দু’পক্ষেরই হওয়া উচিত। আপনি সম্মান ও সহযোগিতা দেখানোর পরেও যদি নিয়মিত অপমানিত হন, তা হলে সব দোষ নিজের ঘাড়ে নেবেন না। প্রয়োজনে পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে কিংবা শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বসে বিষয়গুলো আলোচনা করুন।
নিজের মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিন
সংসার টিকিয়ে রাখার অর্থ সব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করা নয়। নিয়মিত মানসিক অত্যাচার কিংবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলে নিজেকে অগ্রাধিকার দিন। সুস্থ দাম্পত্যের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখা। আর সেটা এক তরফা কখনও হয় না। যদি অন্যদিকে থাকা ব্যক্তি আপনার সম্মান না করেন, তা হলে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন।
FAQ
১. স্বামী মা-ঘেঁষা হলে কী করবেন?
স্বামীর সঙ্গে শান্ত ভাবে কথা বলুন। মায়ের প্রতি তাঁর দায়িত্বকে সম্মান জানিয়েও বোঝান যে দাম্পত্যে একে অপরকে সময় দেওয়া এবং পাশে থাকাও জরুরি। একে অপরের চাহিদা ও প্রত্যাশা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করুন।
২. শাশুড়ির সঙ্গে রোজ অশান্তি হলে কী ভাবে সংসার সামলাবেন?
অশান্তির কারণ চিহ্নিত করে শান্ত ভাবে আলোচনা করুন। ব্যক্তিগত বিষয়ে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করুন এবং স্বামীর সহযোগিতা চান। বার বার ঝগড়ায় না জড়িয়ে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
৩. স্বামী মায়ের কথায় সব সিদ্ধান্ত নিলে কী করবেন?
স্বামীকে বোঝান যে সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যেমন আর্থিক পরিকল্পনা, সন্তানধারণ বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত দু’জনের আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে দাম্পত্য কাউন্সেলরের সাহায্য নিতে পারেন।
৪. শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে কি দাম্পত্যেও দূরত্ব বাড়ে?
শাশুড়ির সঙ্গে নিয়মিত অশান্তি হলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তাই সমস্যাগুলি জমিয়ে না রেখে আলোচনা করা, একে অপরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সুস্থ সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি।
৫. সংসার টিকিয়ে রাখতে কি সব অন্যায় সহ্য করা উচিত?
না। সংসার টিকিয়ে রাখার অর্থ অপমান বা নির্যাতন সহ্য করা নয়। নিয়মিত মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলে নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিন এবং প্রয়োজনে বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা পেশাদারের সাহায্য নিন।
