জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) তাকে এই শাস্তি দিয়েছেন।
গত মাসে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচকে কেন্দ্র করে কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়ান রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পর খেলার সময় নিয়ে কোচের বিরুদ্ধে কথা না রাখার অভিযোগ তোলেন পর্তুগালের অধিনায়ক। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান তিনি।
এই ঘটান্য সোমবার (২০ অক্টোবর) রোনালদোর শাস্তি ঘোষণা করে ফেডারেশন। শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর স্বীকারোক্তি ও আগে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রশমনকারী বিষয় বিবেচনার পরও তাঁকে সর্বোচ্চ ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।
পাশাপাশি ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে রোনালদোকে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নভেম্বরে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের পরবর্তী দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে জেসুসের বিরুদ্ধে কথা না রাখার অভিযোগ করেছিলেন রোনালদো। তাঁর দাবি, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ৩০ মিনিট খেলার জন্য তাঁকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন কোচ।
রোনালদো বলেন, ‘কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, নরওয়ের বিপক্ষে ৩০ মিনিট খেলার জন্য আমি প্রস্তুত কি না। এতে আমি পুরোপুরি অবাক হয়েছিলাম। তখন আমি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দিচ্ছিলাম এবং সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করছিলাম। ভেবেছিলাম, সেদিন খেলব না। এতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অনুরোধ আমার শারীরিক পুনর্বাসন ও অনুশীলন পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ, আমার শুধু ৪ অক্টোবর দ্রাগাওয়ে খেলার কথা ছিল। তবু আমি রাজি হয়েছিলাম। কোচ আমাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।’
এরপর কী ঘটেছিল, তা জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘সবাই জানে, এরপর কী হয়েছে। বিরতির পর আমি ওয়ার্মআপ করলাম, সময় গড়িয়ে যেতে দেখলাম, কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি। কোচ আমার সঙ্গে কথা রাখেননি।’
এর আগে ফেডারেশনের সম্ভাব্য শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রোনালদো। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা অবশ্য রোনালদোর ওপর আস্থা রেখেছেন। তাঁর বিশ্বাস, অধিনায়ক জেসুসের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে আবার দলে ফিরবেন।
প্রোয়েনসা বলেন, ‘আমরা পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্পদের দেশে আছি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, আমাদের অধিনায়ক। আমাদের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’
