Published on
:
2 min read
টমেটো সসের নামে দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে আলুর পেস্ট আর কৃত্রিম রঙ মেশানো ভেজাল। আমেদাবাদের গোটা এলাকায় সম্প্রতি এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমেদাবাদ পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তর সেখানের একটি কারখানায় অভিযান চালায়। ওই কারখানা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৬৩০ কেজি ভেজাল সস বাজেয়াপ্ত করেছে পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। পাশাপাশি কারখানাটিকে পুরোপুরি সিল করে দিয়েছেন আধিকারিকরা। ওই সসে টমেটোর কোনও ব্যবহার করা হতো না বলে উঠে এসেছে পুরসভার তদন্তে।
একনজরে
আমেদাবাদে টমেটো সসের নামে আলুর পেস্ট, কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তর একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার ৬৩০ কেজি ভেজাল সস ও কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করেছে।
অভিযানের পর কারখানাটি সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সস তৈরিতে কোনও টমেটো ব্যবহার করা হতো না।
সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ হাজার কেজি বাজারে বিক্রির জন্য তৈরি সস এবং ৫ হাজার কেজিরও বেশি কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করেছেন। বড় বড় পাত্রে রাখা লাল সস, সসের প্যাকেট, রাসায়নিক রঙ এবং বস্তা ভর্তি আলু ও পাউডার দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের।
পুরসভার ফুড সেফটি অফিসার মহেন্দ্র প্যাটেল জানিয়েছেন, টমেটোর বদলে আলু সেদ্ধ করে পেস্ট বানানো হত। তা শুকিয়ে পাউডার তৈরি করা হতো। পরে সেই পাউডারের সঙ্গে জল, লাল রঙ ও রাসায়নিক মিশিয়ে দিব্যি টমেটো কেচাপ, চাটনি ও সিরাপ বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ। কৃত্রিম রঙ ও রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে এই ভেজাল পণ্য স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর বলে দাবি চিকিৎসকদের।
জানা গিয়েছে, অভিযানের পরে ওই কারখানার খাদ্য সুরক্ষা লাইসেন্স বাতিল করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সে রাজ্যের প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখান থেকে পাঁচটি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট এলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে সূ্ত্রের খবর। এর আগে বেহরামপুরা এলাকায় ঠিক একই কায়দায় সস তৈরির অভিযোগ পেয়েছিল আমেদাবাদ পুরসভা। সেখানের একটি কারখানায় হানা দিয়ে প্রায় দু'হাজার কেজি ভেজাল পণ্য উদ্ধার করেছিল পুরসভা। পর পর দুটি ঘটনায় শহর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভেজাল চক্র নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে আমেদাবাদ প্রশাসন।
FAQ
১. প্রশ্ন: আমেদাবাদে কী ধরনের ভেজাল সস তৈরির অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: টমেটো সসের নামে আলুর পেস্ট, কৃত্রিম লাল রং ও রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল সস তৈরি করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
২. প্রশ্ন: অভিযানে কতটা ভেজাল পণ্য বাজেয়াপ্ত হয়েছে?
উত্তর: আমেদাবাদ পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তর প্রায় ১০ হাজার ৬৩০ কেজি ভেজাল সস ও কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করেছে।
৩. প্রশ্ন: ভেজাল সস কীভাবে তৈরি করা হতো?
উত্তর: অভিযোগ, আলু সেদ্ধ করে পেস্ট তৈরি করে তা শুকিয়ে পাউডার বানানো হতো। পরে সেই পাউডারের সঙ্গে জল, লাল রং ও রাসায়নিক মিশিয়ে সস তৈরি করা হতো।
৪. প্রশ্ন: ওই কারখানায় কি টমেটো ব্যবহার করা হতো?
উত্তর: না। পুরসভার তদন্তে উঠে এসেছে, ওই কারখানায় সস তৈরিতে কোনও টমেটো ব্যবহার করা হতো না।
