আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় এসে ইস্টবেঙ্গলকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন আল শোর্তা এসসি-র কোচ সামি ত্রাবেলসি। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের প্রশংসা করলেও গ্রুপের অন্য দলগুলিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হবে আল শোর্তা এসসি। কলকাতায় পা রেখেই প্রতিপক্ষকে নিয়ে নিজের মতামত জানালেন আল শোর্তার টিউনিশিয়ান কোচ সামি ত্রাবেলসি। ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখেছেন তিনি। লাল-হলুদের আক্রমণভাগে একাধিক দক্ষ ফুটবলার রয়েছেন বলেও মনে করেন ইরাকের ক্লাবের কোচ।
গ্রুপের লড়াই প্রসঙ্গে ত্রাবেলসির বক্তব্য, শুরু থেকেই যে দল ম্যাচ জিতবে এবং বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করবে, তারাই যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে। তাঁর মতে, চারটি দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। আল শোর্তার ভালো দল থাকলেও প্রতিযোগিতার বাকি দলগুলিতেও দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছেন। ফলে শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।
ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ত্রাবেলসি বলেন, প্রতিপক্ষের খেলা সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। ম্যাচ দেখেছেন তিনি। ইস্টবেঙ্গল ভালো ফুটবল খেলছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর গোলও করছে। বিশেষ করে দলের আক্রমণভাগে ব্যক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন ফুটবলারদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে তাঁর। লাল-হলুদের স্ট্রাইকার ও মিডফিল্ডারদেরও প্রশংসা করেছেন আল শোর্তার কোচ। লাল-হলুদের কয়েকজন ফুটবলার ব্রাজিল, উরুগুয়ে, পানামার বিরুদ্ধে খেলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, আগামিকালের ম্যাচের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মাঠে নেমেই দুই দলের প্রকৃত শক্তির পরীক্ষা হবে।
ঘরোয়া লিগে আল শোর্তা ইতিমধ্যেই ন'টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। অন্যদিকে, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে এটি ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় ম্যাচ। ম্যাচের আগে এই অভিজ্ঞতাকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে ত্রাবেলসি জানান, শারীরিক প্রস্তুতির দিক থেকে তাঁর দল কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। তবে এক মাসে ন'টি বা তারও বেশি ম্যাচ খেলার ফলে ফুটবলারদের উপর চাপও বাড়ছে। প্রতি তিন-চার দিন অন্তর ম্যাচ খেলতে হওয়ায় ঘরোয়া লিগে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে দলকে। তার উপর কলকাতায় আসতে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা করতে হয়েছে।
তবে ঘন ঘন ম্যাচ খেলার একটি ইতিবাচক দিকও দেখছেন আল শোর্তার কোচ। তাঁর মতে, একসঙ্গে অনেক ম্যাচ খেললে দলের ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়া ও সংহতি বাড়ে। আগামিকালের ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেই আশা করছেন তিনি।
আবহাওয়া নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ নেই ত্রাবেলসির। কলকাতার আর্দ্র আবহাওয়া তাঁদের সমস্যায় ফেলবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ইরাকে অনেক সময় ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও খেলতে হয় তাঁদের। কাতার ও সৌদি আরবের আবহাওয়ার সঙ্গেও এখানকার পরিস্থিতির কিছুটা মিল রয়েছে। তাই আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে দেখতে নারাজ আল শোর্তার কোচ।
আল শোর্তার ফুটবলার বাসাম শাকির আহমেদও কলকাতায় ফিরে খুশি। এর আগে এই শহরে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় এখানকার পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর কিছুটা ধারণা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলতে কলকাতায় এসেছিলেন বাসাম।
আল শোর্তার দলে রয়েছেন ইরাকের স্ট্রাইকার মোহানাদ আলি। ‘মিমি’ নামে পরিচিত এই ফুটবলারকে ঘিরে এশীয় ফুটবলে একসময় বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তাঁর গতি, শারীরিক শক্তি এবং গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ফলে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে, ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র ম্যাচে নামছে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, একাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কলকাতায় এসেছে আল শোর্তা। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই ত্রাবেলসির। এখন দেখার, যুবভারতীতে শেষ হাসি হাসে কোন দল।
