আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা কয়েক সপ্তাহের চাপের পর মঙ্গলবার দুপুরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে দেখা গেল বড়সড় উত্থান। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশার আলো দেখলেন বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভকর এবং সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর সেই খবর সামনে আসতেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে শেয়ার বাজার। দিনের লেনদেনে সেনসেক্স এক ধাক্কায় ১১০০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়ে যায়। অন্যদিকে, নিফটিও ৩৫০ পয়েন্টের বেশি উত্থান দেখায়।
ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্মলা সীতারমন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভকর নিয়ে ভারতীয় ও বিদেশি—উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীরাই নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন। পাশাপাশি, শেয়ার বাজারে লেনদেনের উপর ধার্য STT এবং বিভিন্ন সম্পদশ্রেণির ক্ষেত্রে একই ধরনের করনীতি প্রয়োগ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তাঁর মতে, এই ধরনের বিতর্ক স্বাস্থ্যকর এবং বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছেন বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের ধারণা, মূলধনী লাভকর এবং লেনদেনের খরচ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ সম্পর্কে সরকার অবগত। যদিও করের হার কমানো বা কোনও নির্দিষ্ট পরিবর্তনের ঘোষণা করেননি অর্থমন্ত্রী, তবু তাঁর বক্তব্য বাজারে আশাবাদ তৈরি করেছে।
IT শেয়ারে বড়সড় উত্থান
মঙ্গলবার বাজারের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বা IT ক্ষেত্রের শেয়ারগুলি। নিফটি IT সূচক প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। HCL Technologies-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বাড়ে। সংস্থার ত্রৈমাসিক ফলাফল এবং মুনাফার উন্নতি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে, দেশের বৃহত্তম IT পরিষেবা সংস্থা TCS-এর শেয়ারও প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Accenture, TCS এবং HCLTech-এর সাম্প্রতিক ফলাফল থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে IT সংস্থাগুলির আয়বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের সবচেয়ে খারাপ পর্ব হয়তো কাটতে চলেছে। ফলে এই ক্ষেত্রের শেয়ারে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে চলতি বছরে নিফটি IT সূচক এখনও প্রায় ২৩ শতাংশ নীচে রয়েছে। আয়বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে এত দিন এই ক্ষেত্রের শেয়ারে চাপ ছিল।
মুদ্রাস্ফীতি ও অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ
বাজারের সামগ্রিক ছবিতে অবশ্য কিছুটা মিশ্র প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ১৬টি প্রধান ক্ষেত্রভিত্তিক সূচকের মধ্যে ১৪টি ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও স্মল-ক্যাপ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ কমেছে। মিড-ক্যাপ সূচক বেড়েছে ০.৪ শতাংশ।
দেশের বাজারে এখন নজর রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদের নীতির দিকেও। সেপ্টেম্বরে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেড়ে ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে থাকায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে করনীতি নিয়ে আলোচনায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারের গতিপথই বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
