কালবেলা · আন্তর্জাতিক
রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, অস্ত্র উৎপাদনও সচল তেহরানের
১১/১০/২০২৬

ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কারখানা সচল রেখেছে এবং অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে সক্ষম। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়া ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে এখনো কিছু জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও পর্যাপ্ত।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের এই মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সামরিক শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা’ এবং ‘পুরো প্রতিরক্ষা অবকাঠামো’ ধ্বংস করে দিয়েছে।
তবে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি পশ্চিমা কর্মকর্তাদের এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কেলির বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত, অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন।’ ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
কেলি আরও বলেন, ‘এরপর অপারেশন এপিক ফিউরি সফলভাবে সেই প্রচলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, যা পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষায় ইরান গড়ে তুলতে চেয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদন স্থাপনা ও নৌবাহিনী।’
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে শুরু করা যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কেলি এসব কথা বলেন।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের ঠিক আগেই শুক্রবার রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এক চুক্তির ঘোষণা আসে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়া ও দাম বৃদ্ধি রোধে; বিশ্ববাজারে রাশিয়ান ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে দুই দেশ সেখানে একমত হয়।
ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে, ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার জ্বালানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর আয়ের পথ বন্ধ করতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তারপর ওয়াশিংটনের সবশেষ এই পদক্ষেপকে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার ওপর কয়েক বছর ধরে রাখা মার্কিন চাপের এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত মাসে প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া গোপনে ইরানকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করে আসছে। রাশিয়ান প্রকৌশলীরা তেহরানকে একটি র্যামজেট প্রপালশন সিস্টেম তৈরিতে সাহায্য করছেন, যা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য নৌ সরঞ্জামের বিরুদ্ধে নতুন হুমকি তৈরির সক্ষমতা দেবে ইরানকে।
সূত্র : ব্লুমবার্গ
মূল প্রতিবেদনে যান ↗