মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক প্রত্যেক জেলেকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ সময় জব্দকৃত প্রায় দেড় লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় একটি বাজারে অবৈধ ইলিশ বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পদ্মা নদী ও সংলগ্ন এলাকায় এ টানা অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাছির উদ্দিন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার, থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকারের অপরাধে ১০ জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সময়ে নদী থেকে উদ্ধার করা প্রায় দেড় লাখ মিটার ক্ষতিকর কারেন্ট জাল জব্দের পর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
নদীতে অভিযানের পাশাপাশি পদ্মাপাড়ের কাজীরসুরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ও প্রশাসন। এ সময় ইলিশ বিক্রির উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা অস্থায়ী দোকানগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে কাজীরসুরা বাজারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরা, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার কালবেলাকে বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় প্রচলিত আইন দেশের সব জেলেকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার জানান, মা ইলিশের প্রজনন ও অবাধ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় মৎস্যসম্পদ সুরক্ষার লক্ষ্যে পদ্মা নদীতে এ ধরনের কঠোর অভিযান ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
