নিজস্ব ছবি এইসময়
Published on
:
3 min read
এই সময়, কাকদ্বীপ: কলকাতার চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলায় দেশ–বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। তার জন্য তিনজন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার এবং একাধিক আমলাকে বিশেষ দায়িত্বভার দেওয়া হচ্ছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন আইপিএস তথাগত বসু, ভাস্কর মুখোপাধ্যায় এবং বৈভব তিওয়ারি। তিনজই এক সময় সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি ছিলেন। এছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলাশাসক পি উলগানাথন এবং সুমিত গুপ্তা–সহ বেশ কয়েক জন আমলাকে গঙ্গাসাগর মেলার দায়িত্বভার দেওয়া হচ্ছে। শনিবার দুপুরে কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠকে এ কথা জানান খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৈঠক শেষে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যে সব পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগর মেলায় আসবেন, তাঁরা যাতে মনোরম পরিবেশে থাকতে পারেন, তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গঙ্গাসাগর মেলায় দুর্ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের অবাঞ্ছিত মৃত্যু আটকাতে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’
কাকদ্বীপের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এ দিন কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামে জনপরিষেবা প্রদান কর্মসূচিতেও যোগ দেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুন্দনবনের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের মধ্যেই মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। গঙ্গাসাগরকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী দিনে কাকদ্বীপকে নতুন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘দু’বছর পরে হলেও কাকদ্বীপকে জেলা করব। সে জন্য খানিকটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু আলাদা জেলা হবেই। সুন্দরবনকে মডেল করব এবং সবগুলো দ্বীপকে জুড়ে দেব।’ তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার মুড়িগঙ্গার উপরে সেতু নির্মাণ নিয়ে মিথ্যাচার করেছিল। সেতু নির্মাণের জন্য আগের সরকার কোনও জমি অধিগ্রহণ করেনি। তৈরি হয়নি ডিপিআর। বর্তমান সরকার সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে সুন্দরবনের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কাজ করেছিল মাত্র ২০০ কোটি টাকার। তার ৮০ ভাগ টাকা আবার চুরি হয়ে গিয়েছে! আমরা আট মাসের বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা আপনাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ করেছি।’
তৃণমূল সরকারের আমলে একশো দিনের কাজে অনিয়ম, আবাস যোজনা ও আমফান দুর্নীতির যথাযথ তদন্ত এবং দোষীদের জেলে পাঠানো হবে বলে এ দিন ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দলের কর্মী–সমর্থক এবং জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিয়ে গেলাম, ’২১-এর ভোটের পরে যাঁরা অত্যাচার করেছেন, তাঁদের একজনকেও ছাড়ব না। আর যাঁরা আমফান, মনরেগার টাকা লুট করেছেন, তাঁদেরকেও ছাড়া হবে না।’
তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে কালীমূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে তিনি সাগরমেলার প্রস্তুতির কাজ দেখতে আসবেন। ২০২৭–এর ১০ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধনেও হাজির থাকবেন।
‘সার’–এর ফলে সুন্দরবন এলাকায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। তাঁদেরকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যাঁরা প্রাণ আর ধর্ম বাঁচাতে এসেছেন, তাঁরা কিন্তু অনুপ্রবেশকারী নন। তাঁরা শরণার্থী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং কাকদ্বীপের মহকুমাশাসককে বলে গেলাম, অতি দ্রুত এঁদেরকে সিএএ সার্টিফিকেট দিতে। আমি ডিসেম্বরের ১০ তারিখের পরে সাগরে আসছি। তার পরে আবার ১০ জানুয়ারি আসব সাগরমেলার প্রস্তুতি দেখতে। তার আগে সকল শরণার্থী যাতে সিএএ সার্টিফিকেট পান, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব ডিএম এবং এসডিও-কে নিতে হবে। স্বরাষ্ট্রসচিবও এটা দেখে নেবেন।’
এ দিন বেলা ১১টা নাগাদ হেলিকপ্টারে চড়ে মুখ্যমন্ত্রী কাকদ্বীপে আসেন। তারপরে রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং, দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী–সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠকে যোগ দেন মথুরাপুরের এনসিপিআই দলের সাংসদ বাপি হালদার, পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা, মন্দিরবাজারের তৃণমূল বিধায়ক জয়দেব হালদার, কুলপির তৃণমূল বিধায়ক বর্ণালী ধাড়া–সহ কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর এবং পাথরপ্রতিমার বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা।
