নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে ৩ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে একটি পোশাক কারখানায় অন্তত ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ভুক্তভোগী নাম সাগর। তিনি ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, রোববার বিকেলে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় শাসনগাঁও এলাকার অরুন হাওলাদারের ছেলে রাইসান রোমান (৩২), মো. আতিক ও মাসদাইরের আব্দুস সালামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫ থেকে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেন সাগর।
বিজ্ঞাপন
তবে অভিযুক্ত রাইসান রোমান চাঁদা দাবির অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সাগরের কাছে ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা পাই। সেই টাকা ৬ বছর ধরে দেই-দিচ্ছি করে দিচ্ছে না। অনেক দিন ধরেই সাগর আত্মগোপনে ছিল। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করা আছে।
এদিকে সাগর বলেন, রোববার বিকেল আনুমানিক পৌনে চারটার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে সাগরকে বিসিকের একটি রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের অফিসের ভেতর ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। রাতেই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন বলেও জানান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরকে অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেট কারে তুলে বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার ‘এম্প্যায়ার কটন’ নামে একটি অফিসের ভেতর আটকে রাখে। পরে সেখানে তাকে লোহার দিয়ে এলোপাথারি মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তারা সাগরের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ওই মুঠোফোন থেকে তার দুবাই প্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটস অ্যাপে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করে।
অন্যদিকে আমার বন্ধু আমাকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি পদক্ষেপের জন্য তৎপরতা শুরু করে। বন্ধুর এই তৎপরতার টের পেয়ে অভিযুক্তরা রাত আনুমানিক পৌনে দশটার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়।
অপর অভিযুক্ত আব্দুস সালাম বলেন, আমার তৈরি পোশাকের ব্যবসা আছে। ২০২০ সালে দুবাইতে ব্যবসার কথা বলে সাগর আমার কাছ থেকে ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার মাল বাকিতে নেয়। সেই টাকা আজও ফেরত দেয়নি। টাকা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া আছে আমার।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়টি ওসি স্যার দেখছেন। তিনি পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিবেন।
এমএইচ
-4848b9.jpg&w=1440&q=75)