ফরিদপুরে পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন কৌশিক সাহা জিতু (২৩) নামে এক কলেজছাত্র। এরপর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরের দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা কমলেশ কুমার সাহা। অবশেষে নিখোঁজের দুই দিন পর কুমার নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষীপুর মদনখালী স্লুইসগেট সংলগ্ন কুমার নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি ফরিদপুর শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়রা ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের সদস্যরা গিয়ে অজ্ঞাত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেন। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তার পরনের প্যান্টের পকেট থেকে এক ছড়া চাবি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান নিখোঁজ কলেজছাত্রের বাবা কমলেশ সাহাসহ স্বজনরা। এ সময় তার পরনের টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন বাবা। পরে জব্দকৃত চাবি পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদ হোসেন জানান, মরদেহটি পচে ফুলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিবারের দাবি অনুযায়ী, জব্দকৃত চারটি চাবি (এক সেট) তার বাসায় নিয়ে তালাগুলোতে পরীক্ষা করা হয় এবং সেগুলো খুলে যাওয়ায় আমরা পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি। এছাড়া নিখোঁজের পরের দিন ১৯ অক্টোবর তার বাবা কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলে তিনি জানান।
নিহত যুবকের চাচা সুকেশ সাহা জানান, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মা ইতি রানী সাহা মুক্তাকে নিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরেছিল কৌশিক। এরপর বাসায় ফিরে পোশাক পরিবর্তন করে আবারও পূজা দেখার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তখন তার মাকে বলেই পকেটে করে বাসার গেটের চাবি নিয়ে যায়। এরপর রাতে আর বাসায় ফেরেনি। সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে সন্ধান না পেয়ে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
তিনি বলেন, আজ সকালে হঠাৎ করে খবর আসে স্লুইসগেটে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। তখন আমরা ছুটে গিয়ে টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে শনাক্ত করি। এছাড়া ওর কাছে থাকা চাবিটি বাসার গেটের বলে শনাক্ত হয়। তবে কীভাবে কী হয়েছে—এখনো আমরা কিছু জানি না। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসানসহ সিআইডি ও পিবিআই সদস্যরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, মরদেহটি উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেছেন। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, কলেজছাত্রের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ফরিদপুর জেলা পুলিশসহ পুলিশের একাধিক দল ও গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। আমরা আশা করছি, এই রহস্য খুব দ্রুতই আমরা উদ্ঘাটন করতে পারব।
জহির হোসেন/আরএআর
