বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যানের চাপায় অকালেই নিভে গেছে দেশের একজন ফ্যাশন উদ্যোক্তার জীবন প্রদীপ। ৪০ বছর বয়সের আগেই চিরতরে চলে গেছেন তরুণ উদ্যোক্তা এবং বিট ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সুমন আহমেদ সামির।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশে একটি ‘নক্ষত্রের’ পতন হলো বলে মনে করেন নেটিজেন ও অন্য উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, ‘বাংলাদেশ আসলে নক্ষত্রের দেশ না। নক্ষত্ররা এদেশে টিকতে পারে না।’
বিজ্ঞাপন
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যান সামিরকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সামির রাস্তা প্রায় পার হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কাভার্ডভ্যানটিকে থামারও সংকেত দেন। কিন্তু গাড়িটি না থেমে তাকে পিষে মেরে চলে যায়।
ওই ঘটনার পর সুমন আহমেদ সামিরকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
সামির স্ত্রী মাসরুবা মেহজাবীন আশা ও এক বছরেরও কম বয়সী মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সুমন আহমেদ সামিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন সাইবার অ্যান্ড সিরিয়াস ক্রাইম অ্যানালিস্ট মাহাবুবুর রহমান। বুধবার রাতে তিনি তার আইডিতে লেখেন, ‘আরো একটি নক্ষত্রের পতন। বাংলাদেশ আসলে নক্ষত্রের দেশ না। নক্ষত্ররা এদেশে টিকতে পারে না।
BEAT এর ফ্যাশন ডিজাইনার এবং কর্ণধার সুমন আহমেদ সামির আর নেই। রাজধানীতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে, আইসিইউতে থাকা অবস্থায় আজ মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার ক্ষমতা দিক।’
বিজ্ঞাপন
মাহাবুবুর রহমান লেখেন, ‘বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকটাই পরিবর্তন এনেছিলেন পুরুষদের পোশাকে এই সুমন। ঢাকার ব্যস্ততম নিউমার্কেটের নূরজাহান মার্কেট থেকে সে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত তার ব্র্যান্ডের বিস্তৃতি দিয়ে ঘটিয়েছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ে তিনি চলে গেলেন বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে। তার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি!’
একই কথা ফেসবুকে লিখে শোক প্রকাশ করেন রোহান চৌধুরী শান্ত।
বিজ্ঞাপন

সামিরের মৃত্যুর পরপর শোক প্রকাশ করেছেন আরেক উদ্যোক্তা বারেক বাপ্পি মৃধা। তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, একটা মানুষ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন থেমে যায় একটা পরিবারের পুরো পৃথিবী! অন্যের ছেলে, অন্যের স্বামী, একটা নিষ্পাপ সন্তানের বাবা…স্বামী! অথচ আজ তিনি নেই, রেখে গেলেন তার প্রিয় মানুষগুলোকে এক বুক কষ্ট আর অসংখ্য স্মৃতি নিয়ে। সারা বাংলাদেশের একটি নক্ষত্রের পতন। বাংলাদেশ আসলে নক্ষত্রের দেশ না। নক্ষত্ররা এদেশে টিকতে পারে না। আল্লাহ তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার ক্ষমতা দিক।
সামিরের স্মৃতিচারণ করে বাপ্পি লেখেন, তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। তিনি বড় ভাই আমি ছোট ভাই। কিন্তু তিনি আমাকে বাপ্পি ভাই ছাড়া কথা বলতেন না। তার থেকে ব্যবসায়িক অনেক আইডিয়া শিখেছি। তিনি আমাকে ব্যবসায়িক অনেক পরামর্শ দিতেন। তার সাথে অনেক ভালো সময় কাটিয়েছি যা স্মৃতি হয়ে থাকবে। সামির ভাই ছিলেন একজন বড় মনের একজন মানুষ। তার সাথে সম্পর্ক ছিল গভীর। তাই তার এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

সামির শরীয়তপুরের মিষ্টি পছন্দ করতেন জানিয়ে বাপ্পি বলেন, তিনি আমাদের শরীয়তপুরের মিষ্টিটা অনেক পছন্দ করতেন। তিনি শরীয়তপুরে এলেই শরীয়তপুরের মিষ্টি পছন্দ করে খেতেন। আজকে সব কিছু স্মৃতি হয়ে গেল ভাই, যা মেনে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পরপারে ভালো থাকবেন ভাই। আপনার ওই এরিয়াতে গেলে আপনাকে খুব মিস করবো ভাই। ভাই আপনার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
বিজ্ঞাপন
সুমন আহমেদ সামিরের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায়। তিনি হরিরামপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মডেল হাই স্কুল থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাসের পর তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস থেকে মার্কেটিংয়ে বিবিএ করেন।
এমএমএআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
