চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাসে আর না আসার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে পদত্যাগ কিংবা ক্যাম্পাসে আর না ফেরার কোনো ঘোষণা দেননি বলে জানিয়েছেন উপাচার্য নিজেই।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি বা চুয়েট ক্যাম্পাসে আর কখনো পা রাখব না- এমন কোনো বিবৃতি বা ঘোষণা দিইনি। এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি আরও বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে আমি চট্টগ্রামে এসেছি, কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়।
চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অস্থিরতা শুরু হয়। যোগদানের ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরানোর প্রতিবাদে এবং পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলে আন্দোলন আরও জোরালো হয়।
বিক্ষোভের কারণে কয়েক দিন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি নতুন উপাচার্য। পরে গত সোমবার সকাল ৮টায় প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ে তালা দিলে সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য।
প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার ৬ টায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরে তাঁকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তাসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, উপাচার্যের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, প্রায় ৩০ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানকালে উপাচার্যসহ অন্যদের খাবার, পানি, ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম আবার ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তাদের শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
টানা ২৩ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা, অন্যদিকে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব পালনে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এতে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসনে সমঝোতার পথ এখনও স্পষ্ট হয়নি।
