সৌদি আরবের দুই পবিত্র শহর মক্কা এবং মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল সে দেশের সরকার। অভিযোগের তির ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির দিকে। তবে এই অভিযোগ একেবারেই মানতে চায়নি হুথি। তারা জানিয়েছে, মক্কা ও মদিনার মতো শহর অতীতে কখনও তাদের নিশানায় ছিল না, বর্তমানেও নেই।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে সৌদি। সেই কারণেই হুথিদের সঙ্গে তাদের সংঘাত। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতেই সৌদি বনাম হুথি সংঘাতও ফের মাথা চাড়া দিয়েছে। ইরানের সমর্থনে অস্ত্র ধরেছে হুথিরা। গত কয়েক মাস ধরে একাধিক বার সৌদির বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর, তেল শোধনাগারকে তারা নিশানা করেছে। ছোড়া হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। কিন্তু মক্কা ও মদিনায় হামলার অভিযোগ তারা মানতে চায়নি।
সৌদি সরকার শনিবার জানায়, দুই পবিত্র শহরকে লক্ষ্য করে দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলিকে প্রতিহত করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ঝরে পড়েছে মক্কা ও মদিনার একাধিক জায়গায়। এ ছাড়া, জেদ্দা, তইফ, রাবিঘের মতো শহরেও ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিরাই চালিয়েছে বলে দাবি সৌদির। এর প্রেক্ষিতে হুথির তরফে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। তাদের দাবি, তাদের যে কোনও সামরিক অভিযানের নিশানায় থাকে সৌদির তেল এবং সামরিক ঘাঁটিগুলি। কোনও হামলা চালানো হয়, সর্বসমক্ষে তা ঘোষণা করা হয়। এ ক্ষেত্রে তা হয়নি।
সৌদির অন্যত্র হামলার কথা অবশ্য হুথি মেনে নিয়েছে। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইয়ানবুর আরামকো তেল ঘাঁটি, রাবিঘের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। হামলা হয়েছে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। ইয়ানবু এবং তইফের দিকে ধেয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, জানিয়েছে সৌদি। তবে হুথির দাবি অনুযায়ী বাকি নিশানাগুলি নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করেনি। শনিবার সকালের দিকে ইয়ানবু, তইফ, মক্কা ও জেদ্দায় সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি সরকার। মিনিট দশেক পরেই তা তুলে নেওয়া হয়। অন্য দিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণের বন্দর শহর এডেনে উপকূলরক্ষীবাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে শনিবার হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের তিরও রয়েছে হুথির দিকে। এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সৌদি আরবগামী একাধিক বিমান বাতিল করেছে বিভিন্ন সংস্থা।
