ডাচেস অব সাসেক্স মেগান গত বছর তার বাবা টমাস মার্কেলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করেছেন। শিশু নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি এই পদক্ষেপ নেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। মেগান তার চিঠিতে জানান, তিনি এবং কর্তৃপক্ষ জানেন যে তার বাবা অল্পবয়সী মেয়েদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।
মেগানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ৮২ বছর বয়সী টমাস মার্কেলকে পাঠানো ওই চিঠিতে মেগান জানান, মার্কেল আর কখনোই তার নাতি-নাতনিদেরম সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন না। খবরে বলা হয়, ফিলিপাইনে টমাস মার্কেলের আগের বাড়ি থেকে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালে বৃটেনের পুলিশ মেগানকে তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত টমাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
২০১৮ সালে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেগানের রাজকীয় বিয়েতে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকেন তার বাবা। তখন থেকেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তবে ২০২৫ সালে পাঠানো এই চিঠির মাধ্যমে বাবা ও মেয়ের মধ্যকার টানাপড়েনের সম্পর্কের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটেছে।
শুক্রবার দ্য সান-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মেগানের সৎভাই ৬০ বছর বয়সী টমাস মার্কেল জুনিয়র দাবি করেন, তিনি ফিলিপাইনে তার বাবার পুরনো বাড়ি থেকে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ও ছবির একটি মজুত খুঁজে পেয়েছেন। জুলাই মাসে তিনি এ বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যা সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন বাবার পক্ষ নেয়ায় দ্য সান-এর মাধ্যমে মেগানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মার্কেল জুনিয়র। তিনি বলেন, গত নয় বছর ধরে তিনি ভুল মানুষকে রক্ষা করে আসছিলেন। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানায়, তাদের মানব পাচার ও শিশু যৌন নিপীড়ন বিরোধী টাস্কফোর্স এসব অভিযোগের তদন্ত করছে। ফিলিপাইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনভিক রেমুল্লা জানান, জাতীয় পুলিশ টমাস মার্কেলের কম্পিউটার জব্দ করেছে এবং তারা এর ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা চালাবে।
এদিকে, মেইল অন সানডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টমাস মার্কেল ফিলিপাইনে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কথা স্বীকার করলেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং শিশু নির্যাতনের ছবি রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার বৃটেনের মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করে ২০১৯ সালে তারা মেগানের বাবার বিষয়ে ‘একাধিক দাবি’ সংবলিত একটি চিঠি পেয়েছিল, যা তারা ওই সময় ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্সকে দেখিয়েছিল। তবে অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তারা এটি জানায়নি এবং বিষয়টি তারা এখন পর্যালোচনা করছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মেগান ওই চিঠির কথা স্বীকার করে একে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, তিনি গভীরভাবে ব্যথিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের প্রতি তার সমবেদনা রয়েছে। ডোরিয়া র্যাগল্যান্ড ও টমাস মার্কেলের একমাত্র কন্যা মেগান আশা প্রকাশ করেন কেন তিনি বাবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেছেন এবং শিশুদের কাছে যেতে দিচ্ছেন না, তা এখন সবাই বুঝতে পারবেন।
