সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ‘ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করেছেন বগুড়ার গাবতলীর তরুণ সমাজসেবক আতিকুল ইসলাম বিপ্লব। তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বগুড়া জেলা যুব কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি বিশেষ আর্থিক অনুদানও লাভ করেছেন।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের ৪৩২টি যুব সংস্থাকে তাদের কার্যক্রম গতিশীল করতে দুই লাখ টাকা করে বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়।
আতিকুল ইসলাম বিপ্লব বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের সোলায়মান আলী মণ্ডলের ছেলে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি গাবতলী ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন। ২০০৯ সালে ‘করিমপাড়া জনকল্যাণ যুব সংঘ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর সামাজিক কাজের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘জামিরবাড়ীয়া হাট জনকল্যাণ যুব সংঘ’, যা পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সরকারিভাবে নিবন্ধন লাভ করে।
বিপ্লবের বহুমুখী সমাজসেবামূলক কাজের মধ্যে রয়েছে—যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সচেতনতামূলক সভা আয়োজন, বেকার যুবকদের মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, জামিরবাড়ীয়া হাট গ্রামকে বায়োগ্যাস পল্লীতে রূপান্তরের উদ্যোগ এবং নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এ ছাড়া শিক্ষা বিস্তারে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মাদ্রাসায় কোরআন ও বই বিতরণ, তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও মসজিদে ফ্যান বিতরণ, ক্যানসার ও প্যারালাইসিসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা এবং করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কাজে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁদের আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান করেছেন।
জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি অর্জনের পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আতিকুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, “ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমেই আমি সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদের গাবতলীর কৃতী সন্তান ও আমার আইডল। তাঁকে অনুসরণ করেই আজ আমি ‘সমাজসেবা ও জনকল্যাণ’ ক্যাটাগরিতে জাতীয়ভাবে নির্বাচিত হয়েছি। এই পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।”
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
