সংঘর্ষে পুড়ে ছাই ফ্রান্সের ঐতিহাসিক লিমোগেস টাউন হল
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ফ্রান্সের ঐতিহাসিক লিমোগেস টাউন। ছবি: সংগৃহীত
-->জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে আয়োজিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সহিংস সংঘর্ষের সময় দুই বিশ্বযুদ্ধ পার করা ঐতিহাসিক লিমোগেস টাউন হল ভবনটি ভস্মীভূত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন এবং ভয়াবহ সংঘর্ষের কারণে প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। তবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আড়ালে মুখোশধারী কিছু দাঙ্গাবাজ লিমোগেস শহরের এই টাউন হলে হামলা চালায়।
ভবনের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দিলে তা দ্রুত পুরো ছাদের অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ছাদসহ ভবনের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। ১৮৭৩ সালে নির্মিত এবং ১৮৮৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা পেরিয়ে টিকে থাকলেও বর্তমানের অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
আরও পড়ুন
লিমোগেস ছাড়াও প্যারিস, মার্সেই, বোর্দো, লিঁও এবং লিলের মতো বড় শহরগুলোতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, যার জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই সহিংসতা ও লুটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এই চরম মাত্রার সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন তার প্রশংসা করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
ভারতে মন্দিরের কাছে ট্রাকচাপায় ১২ ভক্ত নিহত, আহত ২৭
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে মন্দিরের কাছে ট্রাকচাপায় অন্তত ১২ জন ভক্ত নিহত ও অন্তত ২৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে একটি বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক ভক্তদের ভিড়ের ওপর উঠে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবরাত্রি উপলক্ষে শীতলা মাতা মন্দিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়েছিল। চিনোর দিক থেকে ধানের বস্তাবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢালু রাস্তা দিয়ে নামার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকটি সোজা পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে পড়ে এবং মন্দিরের প্রধান ফটক ও বাইরের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়।
আরও পড়ুন
গওয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ৩৯ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যার মধ্যে ১২ জন মারা যান। আহতদের মধ্যে ৫-৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যও এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
গওয়ালিয়রের জেলা শাসক (কালেক্টর) রুচিকা চৌহান জানিয়েছেন, কীভাবে নিষেধাজ্ঞা এবং চেকপয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও ট্রাকটি ভেতরে প্রবেশ করে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটিতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৯, আহত ২৫
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->উত্তর কলকাতার একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির মধ্যে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া এই ঘটনায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে। পূজা কমিটির আয়োজকসহ মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং আহতদের দেখতে তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
ইউরোপীয় কূটনীতিক ও ফরাসি মেয়রের ওপর ইসরায়েলি হামলা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দখলকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহকালে ইউরোপীয় কূটনীতিক, ফিলিস্তিনি কৃষক এবং সেখানে সংহতি জানাতে যাওয়া এক ফরাসি মেয়রের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার মুখোশধারী বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহ কার্যক্রমের খবর সংগ্রহ করার সময় আমেরিকান চিত্রসাংবাদিক হেইডি লেভিনের ওপরও হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন
এদিকে শনিবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলার বিষয়ে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। তার এই বক্তব্যে মনে হচ্ছে, ঘটনাটিকে তিনি একটি সমন্বিত অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ইঙ্গিত করার চেষ্টা করছেন।
তাইবে এলাকায় ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকদের বহনকারী গাড়িগুলো মুখোশধারী বসতিস্থাপনকারীদের হামলার মুখে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি কূটনৈতিক গাড়িতে পাথর ছুড়ছে হামলাকারীরা এবং এর জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাতজন মুখোশধারী বসতিস্থাপনকারী গাড়িটি ঘিরে ধরে পরিচয়পত্র দেখতে চায় এবং পরে হামলা চালায়।
উত্তর ফ্রান্সের ঔলনো-এমেরি শহরের ৭৮ বছর বয়সী মেয়র বার্নার্ড বোডউক্স জানান, স্থানীয় ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে জলপাই তুলতে গেলে মুখোশধারীরা তার ওপর হামলা চালায়। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।’
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হামলাকারীরা তাকে লোহা দিয়ে আঘাত করে এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করে। ইসরায়েলি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় বসতিস্থাপনকারীরা যেভাবে আচরণ করছে, তাতে ইসরায়েলি সরকারের এক ধরণের প্রশ্রয় রয়েছে।’
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রাভোট এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা দেওয়া, কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘সহিংস বসতিস্থাপনকারীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবার শেষ হওয়া উচিত।’
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ এই ঘটনাকে ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনকার ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ আরেকটি উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আজহার/
আরও পড়ুন
দ্রুত গলছে ‘ডুমসডে হিমবাহ’, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের ঝুঁকি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
অ্যান্টার্কটিকার ‘ডুমসডে হিমবাহ’-এর নাসার তোলা একটি ছবি। সংগৃহীত
-->বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়ে দ্রুত গলছে অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ‘ডুমসডে হিমবাহ’ নামে পরিচিত থোয়াইটস । উষ্ণ সমুদ্রের পানি হিমবাহটির নিচে প্রবেশ করে বরফ গলিয়ে দিচ্ছে। এতে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আগের পূর্বাভাসের দ্বিগুণ বাড়তে পারে। চলতি সপ্তাহে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির গবেষকরা যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, থোয়াইটস হিমবাহের বরফ গলার কারণে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩০ মিলিমিটার বা প্রায় ১ দশমিক ২ ইঞ্চি বাড়তে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই হিমবাহের বরফ গলার গতি বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়েও বেশি।
গবেষকরা বলছেন, হিমবাহটির নিচে উষ্ণ সমুদ্রের পানি প্রবেশের প্রক্রিয়া এতদিন পুরোপুরি বোঝা যায়নি। নতুন কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে সেই
প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন
থোয়াইটস হিমবাহ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
থোয়াইটসকে ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ বা ‘বিপর্যয়ের হিমবাহ’ বলা হয়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রশস্ত হিমবাহ। এর আয়তন প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি আফ্রিকার দেশ সেনেগালের প্রায় সমান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের চেয়েও বড়। হিমবাহটি অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত মেরি বার্ড ল্যান্ডের ওয়ালগ্রিন উপকূলে অবস্থিত। এটি পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তরের অংশ।
এই বরফস্তরে আরও অনেক হিমবাহ রয়েছে। পুরো বরফস্তরের আয়তন থোয়াইটসের প্রায় ১৪ গুণ। ১৯৪৭ সালে প্রথম থোয়াইটস হিমবাহের মানচিত্র তৈরি করা হয়। প্রয়াত মার্কিন হিমবাহবিজ্ঞানী ফ্রেডরিক টি থোয়াইটসের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। তবে তিনি নিজে কখনো হিমবাহটি পরিদর্শন করেননি।
১৯৮০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা প্রথম জানতে পারেন, থোয়াইটস দ্রুত গলছে। এর পর থেকেই হিমবাহটির পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশাল আয়তনের কারণে থোয়াইটসের সম্পূর্ণ ধস বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ভয়াবহভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন না, আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই হিমবাহটি পুরোপুরি ধসে পড়বে। এমন ঘটনা ঘটতে আরও কয়েক দশক কিংবা কয়েক শতাব্দীও লেগে যেতে পারে।
থোয়াইটস ও পাইন আইল্যান্ডের মতো হিমবাহগুলো পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তরকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাইন আইল্যান্ড হিমবাহটি পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা থেকে আমুন্ডসেন সাগরের পাইন আইল্যান্ড উপসাগরে প্রবাহিত হয়।
এই হিমবাহগুলো বিশাল বরফস্তরের সামনের দিকে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। ফলে ভেতরের বরফ দ্রুত সমুদ্রে নেমে যেতে পারে না। কিন্তু এসব হিমবাহ গলে গেলে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তর আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। পুরো বরফস্তর গলে গেলে বিশ্বের বহু উপকূলীয় শহর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রায় ৪ শতাংশের জন্য থোয়াইটস হিমবাহের বরফগলা দায়ী।
বিভিন্ন গবেষণার হিসাবে ২০০০ সাল থেকে হিমবাহটি এক লাখ কোটি টনের বেশি বরফ হারিয়েছে। এখনো প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টন বরফ হারাচ্ছে এটি।
হিমবাহটি কেন গলছে?
বিজ্ঞানীদের মতে, থোয়াইটস হিমবাহ গলার প্রধান কারণ উষ্ণ সমুদ্রের পানি। এই পানি হিমবাহের নিচে প্রবেশ করে বরফ গলিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এর প্রভাব পড়ছে মেরু অঞ্চলের হিমবাহগুলোতে। ২০১৯ সালে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি থোয়াইটস হিমবাহের নিচে একটি বিশাল ফাঁপা জায়গার সন্ধান পায়। পানির নিচে থাকা ওই গহ্বরের আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটান এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান। সূত্র: আল-জাজিরা
