মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আজ রোববারই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, আর হয়তো আগামীকালই (আজ রোববার)।’ সম্ভাব্য সামরিক অভিযান কবে চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ কথা বলেন। তবে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালাবে কি না, কিংবা চালালে ঠিক কখন চালাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হননি ট্রাম্প।
তিনি বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তাঁকে হয়তো ‘এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে’ হতে পারে। আবার ইরানও চুক্তিতে রাজি হতে পারে। তেহরান চুক্তি মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান। তবে তাঁর দাবি, যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের জয় হবে। ট্রাম্প বলেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ইরান যাতে ভবিষ্যতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক জনসভায় ট্রাম্পের দেওয়া মন্তব্যের পর এই বক্তব্য সামনে এল। ওই জনসভায় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘আরেকটি ছোট্ট “এপিক ফিউরি” অভিযান” চালাতে পারে। ‘এপিক ফিউরি’ হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই অভিযান শুরু হয়েছিল।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান চালানো হলেও তার জবাব দেওয়া হবে কয়েক গুণ বেশি শক্তি দিয়ে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এ খবর জানিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতাপূর্ণ বক্তব্যের বেশির ভাগই সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা হামলার হুমকি দিচ্ছে, তাদের কার্যকর সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা নেই।
মোহেব্বি বলেন, ‘তারা অন্য সবার চেয়ে ভালো জানে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কার্যকর কোনো অভিযান চালাতে পারবে না এবং নিজেদের লক্ষ্যও অর্জন করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, অতীতে চালানো সামরিক অভিযানের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তার পরিণতিও হবে পরাজয়। মোহেব্বির ভাষায়, ‘শত্রুপক্ষ সীমিত পরিসরে কোনো পদক্ষেপ নিলেও, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান প্রস্তুতি ও সামরিক পরিকল্পনার কারণে ইরানের জবাব হবে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী।’
সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা হতে পারে, বলেছিলেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও
এর আগে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই সপ্তাহান্তেই (পশ্চিমা বিশ্বে সপ্তাহ শেষ হয় শনিবার–রোববারে) ইরানে হামলা চালাতে পারে। তাঁর ভাষায়, এমন হামলা চালানোর সম্ভাবনা ‘নিশ্চিতভাবেই’ রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে বলেন, তাঁর দূত যে সম্ভাবনার কথা তুলেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রেসিডেন্ট দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বারাক। সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক এই দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি তুরস্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছেন। শুক্রবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে বারাককে বলতে শোনা যায়, ‘এই সপ্তাহান্তে কি হামলা হতে পারে? অবশ্যই।’
এদিকে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর যে অবস্থান ওয়াশিংটন নিয়েছিল, ট্রাম্প সেই অবস্থান বদলেছেন কি না, তা নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন। এ সময় বারাকের মন্তব্য শুনে ট্রাম্পকে বিস্মিত মনে হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘উনি কি আমার রাষ্ট্রদূত?’ এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ধারণা, তিনি বেশ ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তি। আচ্ছা, যদি বিষয়টি সত্যি হয়, তাহলে আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।’
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে চালানো হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়ে গেছে।
এই অচলাবস্থার প্রধান কারণগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতপার্থক্য। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বিরোধের কারণে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
