জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেছেন, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান, সেই বিজ্ঞ (মির্জা ফখরুল ইসলাম আমলগীর) মানুষটা ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচনের আগে খোলা ময়দানে মাইক্রোফোন নিয়ে আপনাদের সামনে রেখে বারবার বলেছিলেন এটাই আমার শেষ নির্বাচন। এরপর তো এলাকার যোগ্য সন্তান দেলাওয়ার আছেই।
রাশেদ প্রধান বলেন, উনি তো নিজেই আপনাদেরকে হুকুম দিয়ে গেছেন এটা ওনার শেষ নির্বাচন এরপর দেলাওয়ারকে বিজয়ী করতে হবে। অতএব শুধু জামায়াত নয়, এবার বিএনপি ও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে।
তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রপতি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আমলগীর) আমাদের যে দায়িত্ব দিয়ে গেছে এই দায়িত্ব পালন করতে চাই। কারণ আমরা এই ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই অবহেলিত উত্তরবঙ্গের জেলা পঞ্চগড় যেমন অবহেলিত ঠাকুরগাঁও অবহেলিত। সেই অবহেলিত ঠাকুরগাঁওকে আমাদের যোগ্য প্রার্থী মজলুম দেলাওয়ার ভাই নতুন করে গড়ে তুলবে এবং সেই সুযোগটা আমাদের সৃষ্টি করে দিতে হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে ভোটের ফলাফল সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়ে জাগপা মুখপাত্র বলেন, ২৯ তারিখ ঈমানদারের সাথে আমরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল মারবো এবং এইবার যাতে ভোটের ফলাফল কেউ ঘুরিয়ে দিতে না পারে এ কারণে প্রত্যেকটা ভোট কেন্দ্রে পাহারা দিয়ে ভোট গণনা শেষ করে শেষ করে তারপর বাড়ি ফিরব।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে রাশেদ প্রধান বলেন, নির্বাচনের আগে তারা (বিএনপি) বলেছিল জাতীয় নির্বাচন হয়ে গেলে নাকি সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তারা ফ্যামিলি কার্ড দেবে, সেই ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে নাকি সকল বাজার-সদাই করা যাবে। ঘরে ঘরে নাকি চাকরি হবে। দেশের নাকি অনেক উন্নতি হবে এই কথাগুলো তারা বলেছিল। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর আমি দেখতে পেলাম। ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছায়নি। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো এবং সেই বিদ্যুৎ তারা দিতে পারে না কিন্তু অধিক বিল নিয়ে গেল।
তিনি আরও বলেন, এরপরে নতুন করে এসেছি তাদের চাঁদাবাজি। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও তাদের লুটপাট কার্যক্রম। আমার পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সংসার চলে কৃষি কাজ করে। আমরা কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষ, কৃষিকাজ করতে যে সার লাগে, সেই সার কে নিয়েও তারা সিন্ডিকেট করে ফেলল। সারের দাম বৃদ্ধি করে ফেলল।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ারের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে যে ভাইটা এখানে এসেছে, আমার মজলুম ভাই, এই ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের মানুষ মজলুম, মজলুমের কষ্ট একজন মজলুম বুঝে। মজলুমের কষ্ট সেই মানুষ বুঝবে না যারা দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি করে রাতের আঁধার নেমে আসলে বোতল খুলে বসে লাল নীল রংয়ের পানি নিয়ে। সে মানুষ আপনাদের কষ্ট বুঝতে পারবে না। মজলুমের কষ্ট বোঝার জন্য একটা মজলুমের দরকার। এই মজলুম ভাই হলো দেলাওয়ার ভাই। ২৯ অক্টোবর দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদী হিসেবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন– বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী ডেলোয়ার হোসেন, কাদেমুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী এবং হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমীনই নির্বাচনে রয়েছেন। ৭ অক্টোবর ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া-ভুল্লী) আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রেদওয়ান মিলন/বিআরইউ
