সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বৈষম্য দূর ও সমস্যার সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব বিরোধী দলেরও তেমন দায়িত্ব।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দর সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক হিসেবে সবার যথাযথ অধিকার নিশ্চিত হোক এটাই জামায়াতের প্রত্যাশা। ৫ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নেতাকর্মীরা ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসময় সংবিধান সংশোধনের বর্তমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে একমত না হওয়ায় সংশোধন কমিটিকে কোনো পরামর্শ দেবে না দলটি। বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনেছেন জামায়াত আমির এবং এসব সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরোয়ার।
তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যত সংগঠন আছে, জাতীয় ভাবে তার প্রায় সব সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টসহ আরও অনেক সংগঠন ও সংস্থার নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে শুধু নয়, লিডার অব দ্য অপজিশন হিসেবে একটি সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য। তিনি সেটি স্মরণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে তার ভূমিকা যতটুকু তিনি পালন করেন, সেটিও ব্রিফ করেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা ও মন্দির রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সাহসী এবং দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, এই মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জায়গায় কিছু বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা, দুঃখ-কষ্ট ও ডিসক্রিমিনেশনের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পাশে থেকে এসব সমস্যার সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের নেতা। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আরও মতবিনিময় করব, আরও কথা শুনব এবং আমাদের এই কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে আপনাদের পাশে আমরা সব সময় থাকব।
বিফ্রিংয়ে সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনাতন সমাজের নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আজ যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এজন্য সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
তিনি বলেন, যে শুভ সূচনার শুরু হলো, আগামী দিনে বাংলাদেশের সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা যেন দলমতনির্বিশেষে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি। সবাই মিলেমিশে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারি এবং একে অপরের সহমর্মিতায় পাশে থাকতে পারি, সেটিই আজ আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধেয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে তার এই গ্রহণযোগ্যতা ও বক্তব্যে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তবে আমি একটি কথা বলতে চাই, যখনই আমাদের কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হয়, তখন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং পৃথিবীর বুকে আমরা খুব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আমি বলতে চাই, এই কথাটা আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা-নেত্রীরা যদি মসজিদে খুতবার মাধ্যমে এই সম্প্রীতির আহ্বান জানান, তাহলে বাংলাদেশ সত্যি সত্যি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হয়ে উঠবে।
