Published on
:
2 min read
সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন প্রশ্ন তুলেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)–এর ফান্ডিং নিয়ে৷ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে নামা সিজেপি পুরোদস্তুর রাজনৈতিক দল না হয়েও মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, দিল্লি–সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কী ভাবে একের পর এক বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করছে? উঠছে প্রশ্ন৷
এই পরিস্থিতিতে ভারত–বিরোধী কোনও শক্তি বা দেশ সিজেপিকে অর্থ যোগাচ্ছে কি না, সেই বিষয় নিয়ে সবিস্তার খোঁজ–খবর নিতে শুরু করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি, এমনটাই দাবি সরকারি সূত্রের৷ এই মর্মেই তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিশেষ নজরে থাকবে বাংলাদেশ, নেপাল, চিন ও পাকিস্তানের যোগসূত্রের দিকে৷
ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত সিজেপি আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন পদ্মাপারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বাংলাদেশের এনসিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাহিদ ইসলাম৷
সিজেপিকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নাহিদ লেখেন, ‘নির্বাচনী ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য এই লড়াইয়ে ভারতের তরুণ-তরুণীদের পাশে আমরা দৃঢ়ভাবে আছি। নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী এবং সাংবাদিকদের আটক করা হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ জারি করার মতো ঘটনাগুলি মানুষের মৌলিক স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত হানছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব স্বচ্ছভাবে দেওয়া দরকার। ব্যারিকেড তৈরি করে বা সংবাদপ্রকাশে বাধা দিয়ে সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এই লড়াই শুধু আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকে আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে আমরা একে অপরের বন্ধু ও সহযোদ্ধা।’
সরকারি সূত্রের খবর, নাহিদের এই পোস্টটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়াই হঠাত্ কেন নাহিদ এমন পোস্ট করে সিজেপির পাশে দাঁড়ালেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
রবিবার ফান্ডিং ইস্যুতে সিজেপিকে বিঁধেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও৷ এই ফান্ডিংয়ের পিছনে বিদেশি হাত থাকতে পারে উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ‘ভারতবর্ষে একটা ফ্যাশন রয়েছে, কিছু লোকের আন্দোলন করার। কাজ না থাকলে— চল আন্দোলন করি। বিদেশি ফান্ডিং, এদিক-ওদিক, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির খেলনা হয়ে এরা এসব করতেই থাকে। কিছুদিন চলবে এ সব।’