The Sangbad · সাধারণ
অভিনয় ও পুরস্কার নিয়ে সূচরিতার ভাবনা
১৪/১০/২০২৬

বাংলাদেশের
চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সূচরিতা
দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন না। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের
প্রস্তাব পেলেও গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় সেসব প্রস্তাবে সম্মতি দেননি তিনি। তবে
অভিনয়ে না থাকলেও দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে নিয়মিত ‘আজীবন সম্মাননা’র প্রস্তাব পাচ্ছেন
এই অভিনেত্রী। সেসব প্রস্তাবও বারবার ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।অভিনয়
ও পুরস্কার প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান জানিয়ে সূচরিতা বলেন, ‘একজন নায়িকা হিসেবে আমি বহু
সিনেমায় অভিনয় করে এই দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। পরবর্তীতে অনেক সিনেমায়
মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেও সেই ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। দর্শক আমাকে নায়িকা হিসেবে যেমন
গ্রহণ করেছিলেন, ঠিক তেমনি একজন চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও আপন করে নিয়েছিলেন।’বর্তমান
সময়ে সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে
সূচরিতা বলেন, ‘এই সময়ে এসে আসলে কেন যে আমাদের মতো শিল্পীদের নিয়ে সিনেমা নির্মিত
হচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য নয়। একটা সময় একই সিনেমায় বহু শিল্পীর সমন্বয় থাকত। এখন
কেন যে তা হচ্ছে না, জানা নেই। আমার তো মনে হয়, সিনিয়র শিল্পীসহ জুনিয়র শিল্পীদের নিয়ে
চমৎকার পারিবারিক গল্পের সিনেমা নির্মাণ করলে এখনো তা দর্শক দেখবেন।’‘আজীবন
সম্মাননা’ প্রসঙ্গে সূচরিতা বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিনিয়তই এই সংগঠন, সেই সংগঠন থেকে
আজীবন সম্মাননার জন্য ফোন আসে। আমি তো সত্যিকার অর্থে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস
পুরস্কার এবং প্রযোজক-পরিবেশক পুরস্কারের বাইরে আর কোনো পুরস্কার নিয়ে ভাবিনি কখনো।
যদিও প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির পুরস্কার দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ আছে। কিন্তু এর বাইরে আর
কোনো পুরস্কার প্রাপ্তির দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না।’চলচ্চিত্রের
পুরস্কার প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে চলচ্চিত্র বিষয়ক
পুরস্কারের প্রথা চালু করে বাচসাস ১৯৭৪ সালে। ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রথা
চালু হয়। এই দু’টি সম্মাননায় ভূষিত হলে একজন শিল্পীর আর কোনো বিশেষ স্বীকৃতি বা সম্মাননার
প্রয়োজন আছে কি না, সেই বিষয়ে আমি নাই বা গেলাম। সত্যি বলতে কী, পারফেক্ট দু-একটা পুরস্কারই
যথেষ্ট।’তবে
ভালো গল্প ও সুন্দর চরিত্র পেলে আবারও অভিনয়ে ফিরতে চান সূচরিতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
‘আমি এখনো অভিনয় করতে চাই, অবশ্যই ভালো গল্প-সুন্দর চরিত্রের। না হলে শুধু শুধু অভিনয়
করার কোনোই প্রয়োজন নেই।’১৯৭২
সালের ২২ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘স্বীকৃতি’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে সূচরিতার
অভিষেক হয়। এর আগে শিশুশিল্পী হিসেবে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘বাবলু’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন
তিনি।
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ ও ‘মেঘকন্যা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন সূচরিতা। এ ছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি
বোর্ডের সদস্য হিসেবেও তিনবার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗