পুরান ঢাকার চকবাজারের মুনসুর খান প্লাজা মার্কেটের আগুন পুরোপুরি নেভাতে প্রায় সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা লেগেছে। গত সোমবার বিকেলে লাগা এ আগুন আজ বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
আজ সকালে এক খুদে বার্তায় ফায়ার সার্ভিস এ তথ্য জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গত সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মার্কেটটিতে আগুন লাগার খবর পায় তারা। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে ধাপে ধাপে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গুদামে থাকা মালামাল থেকে ধোঁয়া বের হওয়ায় আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ চলতে থাকে।
গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেছেন, ভবনটির ষষ্ঠ ও সপ্তম তলার গুদামে আগুন লাগে। এর মধ্যে ষষ্ঠ তলায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। সেখানে থাকা ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদামের সাত থেকে আটটিতে আগুন লাগে। গুদামগুলোতে ছাতা, প্রসাধনসামগ্রী, আতরসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল।
কাজী নজমুজ্জামান বলেন, গুদামের মালামাল সরানোর সময় মাঝেমধ্যে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। এসব মালামালে পানি দিয়ে আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ চলছিল। পানি দেওয়া বন্ধ করলে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা ছিল।
আগুন নেভাতে বাধা
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন নেভানোর কাজে কয়েকটি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। এলাকার সরু রাস্তার কারণে ঘটনাস্থলে গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় আগুন নেভানোর কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পানির স্বল্পতাও সমস্যা তৈরি করে।
গুদামগুলোর দরজা ও কলাপসিবল গেটে একাধিক তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো দোকানে তিন থেকে চারটি তালা থাকায় সেগুলো কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়। গুদামগুলোতে মালামাল ঠাসা থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভাতেও সময় লাগে।
আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মী অংশ নেন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের চারজন কর্মী আহত হন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার কারণ জানা যাবে।
