দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে, তবে গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগ ও মানের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
আমি ঢাকার বনশ্রীর একটি স্কুলে এক বছর শিক্ষকতা করেছি। বর্তমানে প্রত্যন্ত ও দুর্গম চরাঞ্চলের ৩ নং চর রামাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আছি। ফলে শহর ও দুর্গম গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমার অভিজ্ঞতায় প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা বেশ বিস্তৃত—শিক্ষক সংকট, পাঠ্যক্রমের সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার্থীদের কার্যকর শিখনকাল, ভৌগোলিক ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা এবং নানা সামাজিক বিষয়। এর মধ্যে প্রথমেই যেটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তা হলো অভিভাবকদের সিদ্ধান্তহীনতা। সন্তানকে কোথায় ভর্তি করালে ভালো শিক্ষা পাবে তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। শহরে বাংলামাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন ও ইংরেজিমাধ্যমসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রামেও শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, নুরানি মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি স্কুল ও আলিয়া মাদরাসার ইবতেদায়ি শাখাসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরে অনেক অভিভাবক ভালো প্রতিষ্ঠানের আশায় সন্তানকে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে নিয়ে যান। এতে শিশুর বয়স, শ্রেণী ও শেখার অগ্রগতির মধ্যে অসংগতি তৈরি হয়। গ্রামেও একই সমস্যা দেখা যায়। কোনো শিশু প্রথমে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য নুরানি মাদরাসায় ভর্তি হয়, কয়েক বছর পড়ার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে।
আমাদের পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবই নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের মানসিক বিকাশ ও শেখার উপযোগিতা বিবেচনায় তৈরি। সাধারণত ছয় বছর বা তার বেশি বয়সে শিশু প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়, আর পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ও ভাষা সেই বয়সের উপযোগী করেই নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কোনো শিশু আগে অন্য প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর পড়ে এলে তার বয়স, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও বর্তমান শ্রেণীর পাঠ্যবস্তুর মধ্যে ফারাক দেখা দিতে পারে।
কেউ পাঠ্যবস্তুর তুলনায় এগিয়ে থাকে, কেউ আবার পিছিয়ে পড়ে। ফলে একই শ্রেণীতে শিশুদের শেখার প্রস্তুতি ও সক্ষমতায় পার্থক্য তৈরি হয়। অন্যদিকে যারা শুরু থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে, তাদের শেখার অভিজ্ঞতা ও অগ্রগতির ধরন আবার ভিন্ন। তবে যারা শুরু থেকে প্রাক-প্রাথমিক শেষ করে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী শ্রেণীগুলোয় পড়ছে, তাদের উন্নতি হচ্ছে না—বিষয়টি এমন নয়। আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো, যারা প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে, তাদের অগ্রগতি বেশ ভালো।
আপনার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত? সে তুলনায় শিক্ষক কতজন?
প্রাথমিক শিক্ষার বড় সমস্যাগুলোর একটি শিক্ষক সংকট। আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১৪২ জন। শিক্ষক আমরা তিনজন—দুজন সহকারী শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষক। সবাই প্রতিদিন না এলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়মিত আসে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের বেশি ক্লাস নিতে হয়। এতে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়, শিক্ষার্থীরাও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।
আমি যখন একটি শ্রেণীতে ক্লাস নিই, তখন অন্য শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক থাকেন না। আমরা তিনজন তিনটি শ্রেণীতে গেলেও বাকি ক্লাস ফাঁকা থাকে। আমাদের বিদ্যালয়ে দুই শিফটে পাঠদান হয়। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পাশাপাশি প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস চলে, আবার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাসও পরিচালনা করতে হয়। ফলে শিক্ষকদের স্বাভাবিক বিরতির সুযোগ থাকে না।
এর সঙ্গে রয়েছে দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের সমস্যা। বিদ্যালয়ে পৌঁছতেই অনেক সময় চলে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কখনো নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোই সম্ভব হয় না। এসব কারণে পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকের ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা এসব বিষয়ে পাঠদান করছেন। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকা কতটা জরুরি?
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের যে প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আমি মনে করি, এ পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের চেয়ে যোগ্য ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক থাকা বেশি জরুরি। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক বিষয়ে আলাদা শিক্ষক নিয়োগের চেয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সাধারণত বিষয়ভিত্তিক হয় না; নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের জন্য আলাদা পদে নিয়োগ দেয়া হয় না। তবে সরকারিভাবে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। আমার মতে, বিষয়ভিত্তিক নিয়োগের ওপর জোর না দিয়ে যারা যে বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন, তাদের সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বাড়ানো যেতে পারে। এতে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য অনেক সময় শিক্ষা অফিস থেকে ইংরেজি বা গণিতে পড়াশোনা করেছেন, এমন শিক্ষকদের খোঁজা হয়। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলো, এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা না করেও অনেক শিক্ষক অত্যন্ত ভালো পাঠদান করছেন। একইভাবে অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করেও কেউ বাংলা ভালো পড়াতে পারেন। প্রাথমিক স্তরে বিষয়গুলোর মৌলিক ধারণা ও ভিত্তি গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। তাই গভীর বিষয়জ্ঞানসম্পন্ন আলাদা শিক্ষক নিয়োগের চেয়ে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও পাঠদানের সক্ষমতা বাড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।
আপনি একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কী ধরনের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন? এসব প্রশিক্ষণ শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের ক্ষেত্রে আপনাকে কতটা সহায়তা করছে?
চাকরিতে যোগ দেয়ার পর আমরা ১০ দিনের একটি ইনডাকশন ট্রেনিং বা প্রারম্ভিক প্রশিক্ষণ পেয়েছি। এরপর তিনদিনের একটি কারিকুলাম ডিসেমিনেশন বা পাঠ্যক্রম পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছি। ১০ দিনের প্রশিক্ষণে চাকরিবিধি, প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য, পাঠ্যক্রমসহ মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে। তবে একজন নবীন শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ যথেষ্ট মনে হয়নি। সময়সীমা আরো বাড়ানো হলে নতুন শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা বাড়ত বলে মনে করি। প্রশিক্ষণের জন্য যে মডিউল তৈরি করা হয়েছে, সেটি নিয়েও ভাবার অবকাশ রয়েছে।
প্রশিক্ষণে যেসব বিষয় শেখানো হয়, বাস্তবে শ্রেণীকক্ষে সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কতটা সুযোগ পাওয়া যায়?
প্রশিক্ষণের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতির কিছুটা ব্যবধান রয়েছে বলে আমার মনে হয়। প্রশিক্ষণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের জন্য যে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করা হয়, বাস্তবে অনেক সময় তা পাওয়া যায় না। শিক্ষক নির্দেশিকা অনুসরণ করে পাঠদান করার জন্য যে পরিবেশ দরকার, সেটিও সব বিদ্যালয়ে থাকে না। হয়তো মডেল স্কুল বা শহরের ভালো বিদ্যালয়গুলোয় এ ধরনের পরিবেশ পাওয়া যায়, কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়ে তা নিশ্চিত করা কঠিন।
প্রশিক্ষণে শিশুমনস্তত্ত্বের বিষয়টি কি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
হ্যাঁ, অবশ্যই রয়েছে। আমি নিজে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) প্রশিক্ষণ নিইনি। তবে যারা নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে জেনেছি, সেখানে শিশুমনস্তত্ত্বের ওপর বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমার মতে, সরকারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মূল সীমাবদ্ধতা প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর চেয়ে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব শ্রেণীকক্ষের পরিবেশের মধ্যকার ব্যবধান। প্রশিক্ষণে যা শেখানো হয়, বাস্তবে তা প্রয়োগের মতো পরিবেশ অনেক বিদ্যালয়ে নেই।
আপনি একটি চরাঞ্চলের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসতে কতটা পথ পাড়ি দিতে হয়? যাতায়াতের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে?
যাতায়াত আমাদের জন্য বড় একটি প্রতিবন্ধকতা। আমার বাড়ি থেকে স্কুলটি প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে। বিদ্যালয়টি এমন একটি প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক পাওয়া যায় না। ঐতিহাসিকভাবে এলাকাটি বঞ্চিত থাকায় সেখান থেকে পর্যাপ্ত যোগ্য শিক্ষকও গড়ে ওঠেননি। ফলে যারা শিক্ষকতা করতে যান, তাদের অধিকাংশই বাইরের এলাকা থেকে আসেন। আমি প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে বাড়ি থেকে বের হই। প্রথমে নৌকাঘাটে যেতে হয়। সেখানে কখনো ৩০ মিনিট, কখনো ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়, কারণ নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত নৌকা ছাড়ে না। এরপর নৌকায় প্রায় ১ ঘণ্টা, তারপর ঘাট থেকে বিদ্যালয়ে যেতে আরো প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটতে হয়। সব মিলিয়ে যেতে আড়াই ঘণ্টা লাগে, ফেরার পথেও প্রায় একই সময়।
অর্থাৎ প্রতিদিন শুধু যাতায়াতেই ৫ ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে?
হ্যাঁ, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই প্রতিদিন যাতায়াতে প্রায় ৫ ঘণ্টা চলে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমস্যা আরো বাড়ে। নদীতে বজ্রপাত বা প্রতিকূল আবহাওয়া হলে নৌকা ছাড়তে দেরি হয়। আবার নদীর পানি শুকিয়ে গেলে পথ দীর্ঘ হয়ে যায়, তখন আরো বেশি হাঁটতে হয়। শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন। চরাঞ্চলটি বিভিন্ন খাল দিয়ে ঘেরা। বিশেষ করে বর্ষাকালে কখনো দুটি, কখনো তিনটি খাল পার হয়ে তাদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়। এ সময় অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, ফলে অনেকে শিশুদের পাঠাতে চান না। বর্ষাকালে প্রায় এক মাস উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আমরাও তাদের জোর করে আসতে বলতে চাই না। অনেক শিক্ষার্থী সাঁতার জানে না; পানির প্রবাহ ও খাল পার হওয়ার ঝুঁকির কারণে তারা নিজেরাও আসতে ভয় পায়। চরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার এটি একটি বড় সমস্যা।
শিক্ষকদের জন্য ওই এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে কি? বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় মানুষ বা সরকার এক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখতে পারে?
আমরা বারবার বলেছি, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার অন্যতম কার্যকর উপায় শিক্ষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু দুঃখজনক হলো, অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শ্রেণীকক্ষই নেই। এসব এলাকার অনেক বিদ্যালয় নদীভাঙনের শিকার হয়, ভাঙনের পর নতুন জায়গায় আবার বিদ্যালয় গড়ে তুলতে হয়। অনেক বিদ্যালয়ে এখনো নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষকদের আবাসন করা কঠিন। আরেকটি সমস্যা হলো, শহরের মতো গ্রাম বা চরাঞ্চলে সহজে বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না। একজন বাইরের মানুষের পক্ষে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করাও কঠিন। তবে কিছু শিক্ষক নিজেদের উদ্যোগে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থেকে সমস্যার সমাধান করেছেন। আমার পরিচিত একজন শিক্ষক সিরাজগঞ্জ থেকে গিয়ে এভাবে পাঠদান করেন। তার শ্বশুরবাড়ি ওই এলাকায় হওয়ায় তিনি রোববার বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করান এবং বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু এ সুযোগ সবার নেই। আমারও এমন কোনো ব্যবস্থা নেই।
আপনি যে চরাঞ্চলে কাজ করেন, সেটি মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। বর্ষাকালে যাতায়াতের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায় বলে জানিয়েছেন। কৃষিকাজের বিভিন্ন মৌসুমেও কি উপস্থিতিতে প্রভাব পড়ে?
শিক্ষার্থীরা শুধু বর্ষাকালেই ক্লাস মিস করে, বিষয়টি এমন নয়। সারা বছরই বিভিন্ন মৌসুমে উপস্থিতি কমে যায়। কৃষিকাজের কিছু পর্যায়ে শিশুদের কাজে লাগানো হয়। যেমন ভুট্টা বা আলুর বীজ রোপণ, ছাগল চরানোসহ নানা কাজে তারা পরিবারকে সহায়তা করে। অনেক সময় একটি শিশু স্কুলে যেতে চাইলেও তার বাবা যেতে দেন না। হয়তো সেদিন ভুট্টার বীজ রোপণ করতে হবে। তখন বাবা বলেন, ‘আজ তোমাকে স্কুলে যেতে হবে না, আমার সঙ্গে জমিতে কাজ করতে হবে।’
তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বাড়িতে ছাগল আছে। স্কুল ছুটির পর তারা ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে যায়, সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে। সারা দিনের কাজের পর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, পরদিন সকালে আবার স্কুলে আসে। অনেককে আবার সকালে নুরানি মাদরাসায়ও কিছু সময় দিতে হয়। ফলে বাড়িতে বসে পড়াশোনা বা বাড়ির কাজ করার সময় তাদের থাকে না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই আমরা পাঠদান করি। চেষ্টা করি, স্কুলে যা শেখানোর তা স্কুলেই শেখাতে। বাড়িতে গিয়ে তারা নিয়মিত পড়বে বা বাড়ির কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা সব সময় করা যায় না।
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করতে মিড ডে মিল চালু, স্কুলের পোশাক সরবরাহ ও বৃত্তির মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়। এসব কর্মসূচি কি আপনাদের এলাকায় চালু আছে? থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কতটা প্রভাব পড়ছে?
মিড ডে মিল এখনো সারা দেশের সব বিদ্যালয়ে চালু হয়নি; পাইলট কর্মসূচির আওতায় কিছু বিদ্যালয়ে দেয়া হচ্ছে। আমার এলাকার ক্লাস্টারে অর্জুনা বিদ্যালয়ে এটি চালু আছে, আমার বিদ্যালয়ে নেই। পাশের জামালপুর জেলার একটি বিদ্যালয়ে কর্মসূচিটি চালু আছে, সেখানে উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাস্তবায়নে কিছু সমস্যাও আছে। খাবার বিতরণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের যুক্ত থাকতে হয়। ফলে পাঠদান ও শিখন-শেখানো কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত সময়ের একটি অংশ খাবার বিতরণসংক্রান্ত কাজে চলে যায়। এতে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব ও চাপ তৈরি হয়, অনেক শিক্ষক বিরক্তি বোধ করেন। স্থানীয় মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
পাঠদানের বাইরে একজন সহকারী শিক্ষককে কী ধরনের প্রশাসনিক কাজ করতে হয়? এসব কাজ কি শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের ওপর প্রভাব ফেলে?
পাঠদানের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নানা ধরনের প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। শিশু জরিপ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেয়া, বিভিন্ন রেজিস্টার সংরক্ষণ, বৃত্তি ও উপবৃত্তির নিবন্ধন, নিয়মিত মাসিক প্রতিবেদন তৈরি এবং বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এসব কাজে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। ফলে পাঠদানের প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি যত্ন দেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব কারা পালন করেন? এক্ষেত্রেও কি শিক্ষকদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়?
অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা দপ্তরি না থাকায় শ্রেণীকক্ষ ও শৌচাগার পরিষ্কার রাখতে সমস্যা হয়। কোথাও শিক্ষকদেরই এ দায়িত্ব সামলাতে হয়, আবার কোথাও বাইরের লোকের সহায়তা নিতে হয়। এতে শিক্ষকদের নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়।
চরাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কম কেন? অন্য ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর প্রবণতা কেন?
অনেক অভিভাবক শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে নুরানি মাদরাসায় ভর্তি করান। কেউ কেউ কিন্ডারগার্টেনেও সন্তানদের পড়ান। তারা সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ প্রত্যাশা করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের শিক্ষার সুযোগ তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে বিদ্যালয়গুলো অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠতে পারে না। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখা ও তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা কিংবা দেরিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়?
নুরানি মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেন বা অন্য কোনো শিক্ষাধারা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ ঝরে পড়ার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। আবার কেউ দেরিতে ভর্তি হওয়ায় বয়সের তুলনায় নিচের শ্রেণীতে পড়ে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স, আগের প্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞান এবং যে শ্রেণীতে তাকে ভর্তি করা হচ্ছে, তার পাঠ্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। ফলে একই শ্রেণীতে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীকে পড়াতে হয়। তাদের শেখার ঘাটতি পূরণ করে শ্রেণীর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এগিয়ে নেয়া শিক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি, আবার কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে হলে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন?
যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি, সেগুলোর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে। যেমন ভালো ব্যবস্থাপনা কমিটি, পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বের গুণাবলি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ। এসব বিষয় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেগুলোর সমস্যা দূর করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষার কাঠামোগত দিকগুলো শক্তিশালী করা জরুরি। বিদ্যমান নিয়মকানুন ও পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, কার্যকর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো ও শিক্ষক সংকট দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি করা গেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করি।
শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, স্কুলের পোশাক ও ব্যাগ এবং মিড ডে মিলের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা শিক্ষার্থী ভর্তিতে কতটা ভূমিকা রাখে?
আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, মিড ডে মিল, পোশাক, ব্যাগ বা উপবৃত্তির মতো সুবিধার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এসব সুবিধা শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারে, কিন্তু শুধু এগুলো দিয়ে অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাদের কাছে এখন সন্তান কী শিখছে এবং বিদ্যালয়ে কেমন শিক্ষা পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তাদের কেউ কেউ মনে করেন, মিড ডে মিলে যে খাবার—রুটি, কলা বা দুধ—দেয়া হয়, তা তাদের সন্তান বাড়িতেও খায়। অর্থাৎ শুধু খাবার বা পোশাকের সুবিধা দিয়ে সব ক্ষেত্রে তাদের বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়। উপবৃত্তির অর্থও অনেক সময় শিশুর হাতখরচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে যথাযথভাবে শিখছে কিনা, তাদের শেখার চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, সেদিকে বেশি নজর দেয়া জরুরি।
একটি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কত হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় সাধারণভাবে ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষকের অনুপাত অনুসরণ করা হয়। আমার মনে হয়, এ অনুপাত কমিয়ে ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নির্ধারণ করা উচিত। ৪০ জন শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষকের পক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান করানো এবং প্রত্যেকের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০ জনের মধ্যে রাখা গেলে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের দিকে নজর দেয়া ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করা তুলনামূলক সহজ হবে। তবে অনেক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান অনুপাত অনুযায়ীও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এর অন্যতম কারণ শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা। একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আট-নয় মাস, কখনো এক বছরও লেগে যায়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। ফলে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার আগেই আবার নতুন শূন্য পদ তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শ্রেণীকক্ষের সংখ্যা বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করতে হবে।
সরকার ‘ওয়ান ট্যাব, ওয়ান টিচার’ প্রকল্প ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল কনটেন্ট ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আপনার মত কী? বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিদ্যালয়ের জন্য কোন ধরনের শিক্ষা উপকরণ বেশি কার্যকর বলে মনে করেন?
আমার মনে হয়, প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু ডিজিটাল কনটেন্টের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপাদান দিয়ে শিক্ষা উপকরণ তৈরি করে শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুরা যখন নিজের হাতে কোনো উপকরণ নিয়ে কাজ করে, তখন বিষয়টি বুঝতে ও মনে রাখতে সুবিধা হয়। এতে পাঠদানও আরো বাস্তবভিত্তিক ও আকর্ষণীয় হয়। চরাঞ্চল বা গ্রামীণ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ, মনিটর, প্রজেক্টরসহ প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সুবিধার ঘাটতি থাকতে পারে। এসব উপকরণ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ব্যবহারে সমস্যা হয়। তাই শুধু প্রকল্প ঘোষণা বা ডিজিটাল কনটেন্ট সরবরাহ করলেই হবে না; বিদ্যালয় পর্যায়ে এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং তারা শ্রেণীকক্ষে উপকরণগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করছেন কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারেও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বাইরে তাদের কাজের পরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন?
শিক্ষকদের শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না, তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দেয়া জরুরি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের দায়িত্বশীল মানুষ শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি দিলে তাদের কাজের পরিবেশ আরো ইতিবাচক হতে পারে। শিক্ষকরা নিরাপদ পরিবেশে সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারলে শিক্ষার্থীদের জন্যও তাদের আরো ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
চর, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন আছে কি?
এসব অঞ্চলে শিক্ষকদের যাতায়াত ও কাজের পরিবেশের প্রতিকূলতা অন্য অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। তাই দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও আকর্ষণীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে এসব এলাকায় শিক্ষকতায় আগ্রহ বাড়বে এবং শিক্ষক ধরে রাখাও সহজ হবে। সব অঞ্চলের বাস্তবতা এক নয়। তাই অঞ্চলভেদে সমস্যার ধরন বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে প্রান্তিক এলাকার শিশুরাও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
