গবাদিপশু অসুস্থ হলে চিকিৎসক পাওয়া, খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে পরামর্শ—এসব ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ওপর নির্ভর করেন স্থানীয় খামারি ও পশুপালকেরা। কিন্তু ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে জনবল সংকটে এসব সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন; শূন্য রয়েছে ছয়টি পদ।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদগুলোর মধ্যে একজন ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস), চারজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) এবং একজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণী স্বাস্থ্য) রয়েছেন। ফলে চিকিৎসা, রোগ প্রতিরোধ, কৃত্রিম প্রজনন ও মাঠপর্যায়ে খামারিদের পরামর্শ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সীমিত জনবল দিয়ে চালাতে হচ্ছে।
শৈলকুপার গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার গবাদিপশু ও পোলট্রি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। এসব খামারে রোগব্যাধি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে দেরিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে খামারিদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সেবার পরিধি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় খামারি হালিম খাতুন বলেন, গবাদিপশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া খুবই জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে কিংবা কোনো রোগ ছড়িয়ে পড়লে খামারিদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভেটেরিনারি সার্জনসহ শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হলে খামারিরা প্রয়োজনের সময় আরও ভালো সেবা পাবেন।
শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেল হোসেন বলেন, আমাদের দপ্তরে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। বিশেষ করে ভেটেরিনারি সার্জন এবং উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তারপরও উপজেলার খামারি ও সাধারণ মানুষের প্রাণিসম্পদ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তিনি জানান, শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষক ও খামারিদের জীবিকা সরাসরি জড়িত। তাই শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে চিকিৎসা, রোগ প্রতিরোধ ও মাঠপর্যায়ের সেবা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
