আমাদের মধ্যে অনেকেই সঙ্গে পানির বোতল রাখেন। আমরা সেটি কর্মস্থলে, জিমে এবং স্কুলে নিয়ে যাই। সারাদিন ধরে এগুলো বারবার ভর্তি করি এবং এর ভেতরে কী বাস করে তা নিয়ে খুব কমই ভাবি। তাহলে, আপনার পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পানির বোতলটি কত ঘন ঘন পরিষ্কার করা উচিত? এটি প্রতিদিন ধুয়ে ফেলুন, এবং সপ্তাহে একবার ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। শুধু পানি দিয়ে হালকা করে ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়।
পানির বোতল কখন পরিষ্কার করা উচিত?
আপনি যদি সারাদিন ধরে এটি পুনরায় ভর্তি করেন, তবে প্রতিদিন গরম পানি এবং সাবান দিয়ে এটি ধুয়ে ফেলুন। যদি এতে জুস, দুধ, প্রোটিন শেক, ডাবের পানি বা ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় রাখা হয়ে থাকে, তবে প্রতিবার ব্যবহারের পরেই এটি ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার এটি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন, যার মধ্যে ঢাকনা, স্ট্র এবং যেকোনো রাবারের সিল অন্তর্ভুক্ত।
কেন পানির বোতলে জীবাণু জমে
ব্যাকওয়াশ: প্রতি চুমুক মুখের ব্যাকটেরিয়াকে বোতলের ভেতরে ঠেলে দেয়।
উষ্ণ, আর্দ্র অবস্থা: এগুলো ব্যাকটেরিয়াকে বংশবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
বায়োফিল্ম: এটি একটি পিচ্ছিল, অদৃশ্য স্তর যা বোতলের ভেতরের দেয়ালে লেগে থাকে। শুধু পানি দিয়ে ধুলেও এটি দূর হয় না।
তাপ: ব্যাগ, গাড়ি বা জিমে রাখা বোতল গরম থাকে। এটি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
জার্নাল অফ ফার্মেসি অ্যান্ড বায়োঅ্যালাইড সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের ৩০টি বোতল পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১৫টি ছিল প্লাস্টিকের (পিইটি) এবং ১৫টি স্টেইনলেস স্টিলের। স্টিলের বোতলের চেয়ে প্লাস্টিকের বোতলে বেশি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। প্রতি মিলিলিটারে এর গড় ছিল যথাক্রমে ৬৮.৮ এবং ৩৫.৪ কলোনি-গঠনকারী একক। এটি হলো জীবিত ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা। ধীরে ধীরে বোতলগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। গবেষকরা বলেছেন, তাদের এই গবেষণা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। গবেষণাটি ছোট আকারের, তাই এটিকে একটি নির্দেশিকা হিসেবেই বিবেচনা করুন।
পানির বোতলের কোন অংশগুলো সবচেয়ে বেশি নোংরা হয়?
* ঢাকনা এবং মুখবন্ধনী, যা আপনার ঠোঁট স্পর্শ করে।
* স্ট্র, যার ভেতরটা সহজে দেখা যায় না।
* রাবারের সিল এবং গ্যাসকেট, যেখানে পানি আটকে থাকে।
* বোতলের তলা, যেখানে ময়লা জমে।
পানির বোতল সঠিকভাবে পরিষ্কার করার উপায়
* বোতলটি খুলে ফেলুন, যার মধ্যে ঢাকনা, সিল এবং স্ট্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
* প্রতিটি অংশ গরম, সাবানযুক্ত পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
* বোতল ব্রাশ এবং স্ট্র ব্রাশ দিয়ে ভেতরটা ঘষে পরিষ্কার করুন।
* ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন যাতে কোনো সাবান লেগে না থাকে।
* ঢাকনা খুলে রেখে বাতাসে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। ভেজা বোতল কখনোই ধোবেন না।
সাপ্তাহিক ডিপ ক্লিন: বোতলের অংশগুলো প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য সাদা ভিনেগার মেশানো গরম পানিতে, অথবা বেকিং সোডা মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ঘষে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। প্রথমে কেয়ার লেবেল দেখে নিন, কারণ কিছু বোতল ডিশওয়াশারে ধোয়ার জন্য উপযুক্ত নয়।
কাদের পানির বোতলের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অতিরিক্ত সতর্ক হওয়া উচিত?
* শিশু, বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলা
* দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি
* যারা জিমে, বাইরে বা ভ্রমণের সময় বোতল ব্যবহার করেন
* যারা বোতল ভাগাভাগি করে ব্যবহার করেন। বোতল ভাগাভাগি করবেন না। এতে জীবাণু ছড়ায়।
পানির বোতলে জীবাণু জমা হওয়া রোধ করার জন্য অন্যান্য অভ্যাস
নতুন পানি দিয়ে পুনরায় ভর্তি করুন। পুরনো পানি দিয়ে বোতল ভরবেন না। পানি দিনের পর দিন ফেলে রাখবেন না। গরম গাড়িতে বোতল ফেলে রাখা এড়িয়ে চলুন। ফাটা বা আঁচড় পড়া বোতল, সীল বা স্ট্র বদলে ফেলুন, এবং পরিষ্কার করার পরেও যেগুলোতে গন্ধ থাকে সেগুলোও বদলে ফেলুন। দুটি বোতল রাখুন, যাতে একটি ব্যবহার করার সময় অন্যটি শুকিয়ে যায়।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
যদি আপনার বারবার পেট খারাপ, ডায়রিয়া, বমি বা জ্বর হয় এবং আপনি দূষিত পানির সন্দেহ করেন, তাহলে ডাক্তারের কাছে যান। শিশু এবং বয়স্কদের জন্য আরও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
এইচএন
