Published on
:
2 min read
সমাজমাধ্যমে ধর্মবিদ্বেষী কিছু পোস্ট করেছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে সরকার দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময়ে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। ২৩ বছর বয়সি ইরানের সেই মহিলা নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা সেই দেশের আদালতের। পৃথক একটি মামলায় তাঁকে ১২ বছরেরও বেশি কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। জেল থেকে প্রকাশিত এক অডিয়ো বার্তায় নাজমেহ রাষ্ট্রপুঞ্জ, আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। যদিও তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনও চূড়ান্ত নয়। ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
কে এই নাজমেহ আমিনি?
ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের বাসিন্দা নাজমেহ আমিনি। অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে আটক করা হয়। ইরানের সাইবার পুলিশ, ‘ফাটা’ (FATA), তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপের সূত্র ধরে পদক্ষেপ করেছিল বলে বিভিন্ন ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। গ্রেপ্তারের পরে নাজমেহকে মাশহাদের ভাকিলাবাদ কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে রাখা হয়।
কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?
নাজমেহর বিরুদ্ধে ‘সাব-উল-নবি’ (Sab ol-Nabi) ধারায় মামলা করা হয়। অভিযোগ, তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন, যা ইরানের আইনে ধর্ম অবমাননা হিসেবে বিবেচিত। শিয়া ইসলাম ধর্মে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ওঠে। ইরানের ইসলামিক আইন অনুযায়ী ২৬২ নম্বর ধারায় ‘মহানবী’কে অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনের ২৬৩ নম্বর ধারায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম আছে। তবে নাজমেহর মামলায় তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি আদালত গ্রহণ করেনি বলে খবর।
আদালতে কী বলেন নাজমেহ?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আদালতে নাজমেহ দাবি করেছিলেন, বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেডেলিক মাশরুম গ্রহণের পর তিনি বিভ্রমের মধ্যে ছিলেন। সেই অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য করে ফেলেন তিনি। তাঁর আইনজীবীর তরফেও ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে তুলে ধরা হয়। কিন্তু বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
জেল থেকে প্রকাশিত এক অডিয়ো বার্তায় আমিনি বলেন, ‘আমি আজ নিজেকে কোনও নায়িকার আসনে বসাতে চাই না। আমি কেবল একটি জিনিসই চাই: আপনারা আমার হয়ে কথা বলুন। আমি এক নিরাপরাধ তরুণী। আমার মনে অসংখ্য আশা ও স্বপ্ন রয়েছে। আমার বাবা-মা আমার অপেক্ষায় আছেন। এমন এক পরিবার, যারা প্রতি রাতে আমাকে হারানোর আশঙ্কায় বিনিদ্র রাত কাটায়।’
