পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত তথ্য, অনলাইন ব্যাংকিং এবং ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি দুই স্তরের যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু রাখলে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ে।
ব্যবহারকারীদের নিয়মিত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ওয়েব ব্রাউজার ও নিরাপত্তা সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখতে হবে। অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাঠানো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেবার নামে পাঠানো বার্তা, ভুয়া ওয়েবসাইট কিংবা অপরিচিত ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।
গুরুত্বপূর্ণ ছবি, নথি ও অন্যান্য ফাইলের নিয়মিত ব্যাকআপ রাখাও জরুরি। এতে সাইবার হামলা বা যন্ত্রের ত্রুটির কারণে তথ্য হারিয়ে গেলেও তা পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে। কোনো অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক প্রবেশ, অপরিচিত লেনদেন কিংবা সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপদ অন্য একটি যন্ত্র ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে।
অন্যদিকে, পিএইচপি ব্যবহার করে পরিচালিত ওয়েবসাইট ও সার্ভারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণ পরীক্ষা করে নিরাপদ সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। সার্ভারের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা, অপ্রয়োজনীয় সেবা বন্ধ করা, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং তথ্যের ব্যাকআপ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা সার্ভারের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি দলের মাধ্যমে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। তবে কোনো ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেই সেটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সতর্কতা ও নির্দেশনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের ওয়েবসাইট www.cirt.gov.bd অনুসরণ করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা মনে করেন, সরকারি ওয়েবসাইটের মধ্যে পিএইচপি ব্যবহারকারী সাইটের হার ৬০ থেকে ৮৫ শতাংশ হতে পারে। তবে এটি তার ধারণা, যাচাই করা কোনো পরিসংখ্যান নয়। তিনি সরকারি সার্ভারগুলোর পিএইচপি সংস্করণের তালিকা তৈরি এবং ইন্টারনেটে সরাসরি উন্মুক্ত সার্ভারগুলো দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তানভীর হাসান জোহার পরামর্শ, ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারগুলোকে দ্রুত নিরাপত্তা সমাধানযুক্ত পিএইচপি সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ফায়ারওয়াল দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে সার্ভারকে ইন্টারনেট থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সার্ভার লগ পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক অনুরোধ ও সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করতে হবে।
বিজিডি ই-গভ সার্ট জানিয়েছে, শুধু ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বা ফ্রেমওয়ার্ক হালনাগাদ করলেই পেছনে ব্যবহৃত পিএইচপি রানটাইম হালনাগাদ হয় না। তাই প্রকৃতপক্ষে সার্ভারে চলমান পিএইচপি সংস্করণে নিরাপত্তা সমাধান যুক্ত হয়েছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির ঝুঁকি মূলত ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত সার্ভার ও ওয়েবসাইটের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা, যন্ত্র হালনাগাদ করা এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলার মতো মৌলিক নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা উচিত।
