মাত্র তিন কোটি টাকার কম বাজেটে তৈরি কন্নড় সিনেমা ‘প্রেমাদা ওরালি’ বক্স অফিসে দারুণ চমক দেখিয়েছে। মুক্তির ২৮ দিনের মাথায় ভারতীয় বাজারে ছবিটির আয় ১০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। শুরুতে ধীরগতিতে শুরু হলেও দর্শকের ইতিবাচক সাড়া ও মুখের প্রচারে সিনেমাটি এখন ব্লকবাস্টার তকমা পেয়েছে।
বক্স অফিসের হিসাব প্রকাশকারী পিঙ্কভিলার তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ সপ্তাহ শেষে ছবিটির ভারতের বাজারে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১০১ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এর মধ্যে কেবল চতুর্থ সপ্তাহেই এসেছে ২৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি। আগের সপ্তাহের তুলনায় আয় কিছুটা কমলেও উৎসবের ছুটির কারণে চতুর্থ সপ্তাহের আয় দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রায় সমান ছিল। মুক্তির প্রথম দিনে ছবিটির আয় ছিল ১০ লাখ রুপিরও কম। সেখান থেকে মাত্র ২৮ দিনে শতকোটির ক্লাবে পৌঁছানোকে কন্নড় চলচ্চিত্রের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবিটির সিংহভাগ আয় এসেছে কর্ণাটক রাজ্য থেকে। ২৮ দিন শেষে সেখানে সিনেমাটির আয় প্রায় ৯৯ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। পিঙ্কভিলার পূর্বাভাস বলছে, পঞ্চম সপ্তাহের শুক্রবারেই কর্ণাটকে ছবিটির আয় শতকোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে ভারতে ছবিটির মোট আয় ১২৫ কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। সেটি সত্যি হলে কর্ণাটকে সর্বোচ্চ আয় করা কন্নড় সিনেমার তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে আসবে ছবিটি। এই তালিকার আগের স্থানগুলোতে রয়েছে ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’, ‘কান্তারা’ ও ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ২’। এ ছাড়া কন্নড় সংবাদমাধ্যম নিউজ কর্ণাটকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির ২৯ দিনে বিশ্বজুড়ে ছবিটির মোট আয় ১১৪ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে।
পিঙ্কভিলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ভারতের বাজারে ছবিটি আয় করেছিল ৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে এবং তৃতীয় সপ্তাহে আসে ৩৯ কোটি রুপি। চতুর্থ সপ্তাহেও ছবিটির বাজার ভালো ছিল। মুক্তির ২২তম থেকে ২৯তম দিন পর্যন্ত আট দিনে ছবিটির আয় হয়েছে মোট ৩০ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এই আট দিনে দৈনিক গড় আয় ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮১ লাখ রুপি। তবে ২৯তম দিনে এসে দৈনিক আয় কমে আনুমানিক ২ কোটি রুপিতে দাঁড়ায়।
সিনেমার পেছনের গল্পটাও বেশ নাটকীয়। নির্মাণের সময় তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন পরিচালক মনোজ কুমার। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে কাজ শেষ করতে নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র বন্ধক দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। বড় বাজেটের সিনেমার মতো প্রচার চালানোর সামর্থ্য না থাকায় ভিন্ন পথ বেছে নেন নির্মাতারা। ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা রাস্তায় নেমে প্রচারপত্র ও আমন্ত্রণপত্র বিলি করেন। এমনকি গণপরিবহনের বাসে বাসেও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানান তারা। পরে দর্শকদের মুখে মুখে ছবির খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়তে থাকে প্রদর্শনী ও আয়। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ছবিটির প্রদর্শনী ছিল মাত্র ৬০টি।
গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে প্রেম, পারিবারিক সম্পর্ক, দাম্পত্যের টানাপোড়েন এবং নারীর অনুভূতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘প্রেমাদা ওরালি’র গল্প। এতে এক কৃষক নাগান্না ও তার ছেলে শান্তুকে ঘিরে এগিয়ে গেছে কাহিনী। স্ত্রীকে হারানোর পর একাই ছেলেকে বড় করেন নাগান্না। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বাবা চান, শিক্ষিত এক মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হোক। কিন্তু শান্তুর প্রতি দুর্বলতা রয়েছে তার আত্মীয় বসন্তার। বাবার পছন্দে রুক্মিণীকে বিয়ে করার পর শান্তুর দাম্পত্য জীবনে নানা জটিলতা তৈরি হয়। মনোজ কুমার পরিচালিত এই সিনেমাটিতে নাগান্না চরিত্রে অভিনয় করেছেন রঙ্গায়না রঘু, শান্তু চরিত্রে শ্রী রাম, রুক্মিণী চরিত্রে তাপস্বিনী পুনাচ্চা এবং বসন্তা চরিত্রে রামিকা শিবু।
‘প্রেমাদা ওরালি’র সাফল্য নজর কেড়েছে কন্নড় চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখদেরও। ‘কেজিএফ’ তারকা যশ এবং ‘কান্তারা’র অভিনেতা-পরিচালক ঋষভ শেঠি দর্শকদের এমন গল্পনির্ভর সিনেমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশংসা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘টক্সিক’ ছবির বাণিজ্যিক ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেও সিনেমাটির এই সাফল্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। পাশাপাশি কর্ণাটকে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা হওয়ার দৌড়েও রয়েছে এটি। রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিটির আয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে ছবিটি। তবে নিউজ কর্ণাটকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, ১১৪ কোটি রুপির যে হিসাব সামনে এসেছে, সেটি মোট বক্স অফিস আয় বা গ্রস কালেকশন; নির্মাতাদের হাতে থাকা নিট মুনাফা নয়। প্রেক্ষাগৃহের অংশ ও পরিবেশনা খরচ বাদ দিলে নির্মাতাদের প্রকৃত আয় কিছুটা কম হবে। তা সত্ত্বেও সীমিত প্রদর্শনী, স্বল্প বাজেট ও প্রচারের বাধা পেরিয়ে এই সাফল্য কন্নড় সিনেমার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
সূত্র: পিঙ্কভিলা
