চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর তীব্র ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে স্থানীয় বসতঘর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও গ্রামীণ সড়ক। গত জুলাই মাসের শুরুতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চৌধুরীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ার পর থেকে জনজীবন মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে।
নদীভাঙনের এই তীব্র মানবিক ও infrastructural সংকটের মুখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের অর্থে নদীভাঙন রোধে ১৫০ মিটার এলাকায় জিও টিউব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ঠিকাদারি কাজ শুরু হলেও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। কাজ চলাকালেই বেড়িবাঁধের আরও বেশ কিছু অংশ সাঙ্গু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে জিও টিউব স্থাপনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পটিয়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জানান, আকস্মিক নদীভাঙনের তীব্রতার কারণে নির্ধারিত স্থানের বেড়িবাঁধের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। এই বাস্তবতায় পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়। নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে এবং এর পরই কেবল ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই ও কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ জামাল ও মোহাম্মদ ফোরকানসহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই সাঙ্গু নদীর ভাঙন আতঙ্ক তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। নদীর আগ্রাসী স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বসতবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ও ফসলি জমি প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে। ভাঙনের এই মাত্রা অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তাই সাময়িক জোড়াতালি বা মেরামতের পথ পরিহার করে নদীর স্রোত ও ভাঙনের প্রকৃত প্রকৃতি বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বর্তমান ১৯ লাখ টাকার বরাদ্দ দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন করে তা যথাযথ ও টেকসই উপায়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
