সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানোর কথা তো হরহামেশাই শোনা যায়। কিন্তু ২৪ ক্যারেটের বিশুদ্ধ সোনার পথে হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ কজনের ভাগ্যে জোটে? সোনার চামচ বাস্তবে আছে, সোনার গয়না তো আছেই। কিন্তু সোনার তৈরি আস্ত একটা হাঁটার পথ? সে তো রূপকথার গল্পেও বিরল! প্রিয়ার চুলকে ‘স্বর্ণকেশ’ বলে প্রশংসা করা হয়েছে কত কবিতায়, কত জনপ্রিয় গজলে। কিন্তু এবার সোনার সৌন্দর্য শুধু কল্পনা বা কবিতার পাতায় আটকে থাকছে না। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সোনার তৈরি হাঁটার পথ বানানো হচ্ছে দুবাইয়ে। তাও আবার যে সে সোনা নয়, ২৪ ক্যারেটের বিশুদ্ধ সোনা! চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই খুলে যেতে পারে সেই পথ। তখন সোনার পথে হাঁটার শখ পূরণ করতে আর স্বপ্নের রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে হবে না, যেতে হবে দুবাইয়ে।
গালফ নিউজ রোববার (২৫ অক্টোবর) জানায়, দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ও দীর্ঘতম ২৪ ক্যারেট সোনার হাঁটার পথ। আগামী দুই মাসের মধ্যে এটি চালু হতে পারে। পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ হয়ে ওঠার পাশাপাশি সোনা ও গয়নার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান আরো শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রশিদ আল হারমুদি এমারাত আল ইয়ুমকে জানিয়েছেন, এ পথে হেঁটে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সোনার পথ ধরে চলার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বে প্রথম এবং পথটি হবে দীর্ঘতম।
সোনার পথ তৈরির ঘোষণা এসেছে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সময়। ২০২৬ সালের শুরু থেকে সেখানে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করা পাইকারি সোনার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২০ শতাংশ। একই সময়ে সোনা, গয়না, মূল্যবান পাথর ও বিলাসবহুল ঘড়ির নতুন দোকানের সংখ্যা বেড়েছে ১৫ শতাংশ। বাড়তি চাহিদা সামলাতে নতুন অফিস ও দোকানের জায়গা তৈরির কাজ চলছে। আগামী বছর এ এলাকায় নতুন করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে বলে আশা করছেন আল হারমুদি। নতুন বাণিজ্যিক জায়গা যুক্ত হলে এ প্রবৃদ্ধি আরো গতি পাবে।
দুবাইয়ের সোনার জগতের আরেক বিস্ময় হাজির হয়েছে এক জোড়া বিশাল সোনার দুল। ১৬ কেজি ৫১৪ গ্রাম ওজনের দুল দুটির জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দুটি স্বীকৃতি পেয়েছে দুবাই—সবচেয়ে ভারী এবং সবচেয়ে বড় জোড়া সোনার দুল হিসেবে। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জোয়ালুক্কাসের তৈরি দুল দুটি ২২ ক্যারেট সোনার। হাতে তৈরি এ গয়নার নকশায় রয়েছে ভারতীয় ঐতিহ্যের ঝুলন্ত দুল ‘ঝুমকা’। ‘ময়ূরা সহস্র’ নামের এ জোড়ার অর্থ ‘এক হাজার ময়ূর’। আগের বিশ্বরেকর্ডধারী দুলের তুলনায় নতুন জোড়াটি পাঁচ গুণেরও বেশি ভারী। দক্ষ কারিগরদের কয়েক মাসের পরিশ্রমে এটি তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে জোয়ালুক্কাসের একটি শোরুমে দুল দুটি উন্মোচন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মারি। অনুষ্ঠানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একজন প্রতিনিধি জোয়ালুক্কাস গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. জয় আলুক্কাস ও জন পল আলুক্কাসের হাতে দুটি রেকর্ডের সনদ তুলে দেন। জয় আলুক্কাস বলেন, ঐতিহ্যবাহী নকশার এ দুলের আকার ও ওজন—দুই দিক থেকেই স্বীকৃতি পাওয়াটা বিশেষ অর্জন। তিনি জানান, গিনেস কর্তৃপক্ষ রেকর্ড দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে গয়না দুটি বিক্রি করা হবে না; শিল্পকর্ম হিসেবেই অক্ষত রাখা হবে। দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করা হবে এগুলো, যাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা সরাসরি দেখতে পারেন।
সোনার দুলের রেকর্ড আর ২৪ ক্যারেট সোনার পথে হাঁটার আয়োজন—দুই মিলিয়ে দুবাই যেন সোনাকে শুধু গয়নায় আটকে রাখতে চাইছে না। এবার সোনা দিয়ে পথও তৈরি হচ্ছে, যে পথে হাঁটতে পারবেন মানুষ। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানোর সৌভাগ্য না থাকলেও, সোনার পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে দুবাই হয়তো সেই সুযোগই করে দিচ্ছে।
