মেয়ে আর নেই! খুলছে না চোখ, ডাকলেও সাড়া নেই! মেয়ের নিথর শরীরের দিকে তাকিয়ে অঝোরে কেঁদে চলেছেন বাবা। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর খবর ততক্ষণে পরিবারের সব সদস্যের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। গোটা পরিবার শোকে পাথর। তার মধ্যেই চলছে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি। এজন্য কিনে আনা হয় কফিনও। শুরু হয় ১৫ বছরের কন্যার শেষযাত্রার প্রস্তুতি। কিন্তু হঠাৎ করে কফিনের ভিতর নড়াচড়ার শব্দ গোটা পরিস্থিতিকে বদলে দিল! একেবারে চমকে উঠল গোটা পরিবার। সবার একটাই প্রশ্ন, কফিনের ভিতর ওটা কীসের শব্দ? প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলেও পরে সাহস করে খোলা হয় কফিন। এরপর তা যা ঘটল, তাতে রীতিমতো তাজ্জব সবাই। কফিন থেকে উঠে আসছেন ওই কিশোরী। তাও আবার কিনা দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা পর।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াতেমালার এল জোকোটে নামে একটি গ্রামে। শুধু পরিবার নয়, এই ঘটনায় কার্যত হতবাক পাড়া-প্রতিবেশীরাও। কেউ বলছেন মিরাকল, কেউ বলছেন এ যেন এক অসম্ভব ঘটনা। কীভাবে মৃত কিশোরী কফিন থেকে উঠে এল! তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। জানা গিয়েছে, আচমকাই ওই কিশোরীর বুকে প্রবল ব্যাথা শুরু হয়। অজ্ঞান হয়ে যায় সে। তড়িঘড়ি তাকে গাড়িতে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা। কিন্তু পথেই সব শেষ! অন্তত সেরকমটাই ভেবেছিলেন ওই ব্যক্তি। হাত দিয়ে দেখেন কিশোরীর পালস থেমে গিয়েছে, কোনও সাড়াশব্দ নেই। শরীরের প্রাণের কোনও লক্ষণ না দেখে, বাবা বাড়ি নিয়ে চলে আসেন, আর হাসপাতালে নিয়ে যাননি। এমনকী মেয়েকে কোনও চিকিৎসককে দেখানোরও প্রয়োজন মনে করেননি ওই ব্যক্তি। এখানেই শেষ নয়, একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কোনও চিকিৎসককে না দেখিয়ে তিনি সবাইকে জানিয়ে দেন যে তাঁর মেয়ে আর নেই। এমনকী কোনও ডেথ সার্টিফিকেট না নিয়েই তড়িঘড়ি কফিন কিনে ফেলেন তিনি।
জানা যায়, এরপরও প্রায় ৮ ঘণ্টা ওইভাবেই পড়েছিল কিশোরী। তাকে শুইয়ে দেওয়া হয় কফিনে। শুরু হয় অন্ত্যেষ্টির প্রক্রিয়া। কিন্তু তার আগেই ঘটে মিরাকল! হঠাৎ নড়াচড়ার শব্দ শোনা যায় কফিনের ভিতর থেকে। ঢাকাটা সরাতেই দেখা যায়, মেয়ে বেঁচে আছে, নিঃশ্বাসও পড়ছে দিব্যি। পরিবারে সবার মুখে হাসি ফোটে। রীতিমতো উদযাপন করেন সবাই। তবে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে যে কেন কিশোরীকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে গিয়েই মৃত বলে ঘোষণা করা হল!
