মহাসমাবেশ সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাঃ আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং দেশের ৬৪ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকেরা (ডিডিএলজি) উপস্থিত ছিলেন।
গ্রাম পুলিশের দাবি শুনতে সরকারের উদ্যোগ, প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের মতামত ও দাবি-দাওয়া সরাসরি শোনার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাম পুলিশদের দাবি-দাওয়া নিয়ে এর আগে বিভিন্ন সংগঠন কাজ করলেও এবার সরকার সরাসরি তাঁদের কথা শুনতে উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আইনি ক্ষমতা জোরদার করার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব পাওয়ার পর একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী সময়ে মহাসমাবেশে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যেন গ্রামে গ্রামে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় সরকার নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান, দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে পরদিন থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাপক পরিসরে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত অভিযান শুরুর কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব কর্মসূচিতে বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও সভায় গুরুত্ব পায়। সরকারের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মীদের ভূমিকা আরও কার্যকর করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হবে।
The post ৭ নভেম্বর ঢাকায় গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশ, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী appeared first on ভোরের চেতনা.
