Published on
:
1 min read
পুজোর আনন্দে পরিবারের সঙ্গে কোন্নগর থেকে কলকাতায় এসেছিল ৭ বছরের দৃশানী সর্দার। শহরের পুজো দেখার একরাশ আনন্দে উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছিল ছোট্ট দৃশানী। কিন্তু সেই আনন্দ যে মুহূর্তে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বদলে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের কেউ। চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ভিড়ের চাপে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছোট্ট দৃশানী। নাতনির এই পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না দাদু অনিন্দ্য কুমার দাস। হাসপাতালের বাইরে নাতনির জন্য হাহাকার করে কাঁদছেন তিনি। অন্য দিকে, মেয়ের এমন অবস্থা দেখে জ্ঞান হারিয়েছেন দৃশানীর মা অনন্যা দাসও।
দৃশানীর পরিবারের সদস্যদের বয়ান অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭.৩০টা নাগাদ মণ্ডপ থেকে বেরোনোর মুখে আচমকাই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টি শুরু হতেই ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। একের পর এক মানুষ পড়ে যেতে থাকেন। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আহত হয় দৃশানী।
কী ভাবে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি এমন বিপজ্জনক হয়ে উঠল, তা বুঝে ওঠার সুযোগ পাননি পরিবারের সদস্যেরা। পুজোর আনন্দে কলকাতায় এসে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, সেটা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তাঁরা। ঘটনার পরবর্তী অবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দৃশানীর দাদু।
তাঁর অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রথম আধ ঘণ্টা পুজো কমিটির কাউকে দেখা যায়নি। পরে পুলিশকর্মীরা এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ততক্ষণে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। অন্ধকারের মধ্যে কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে ছোট্ট মেয়েটিকে, সেই উদ্বেগেই কাটে তাঁদের সময়।
যে নাতনিকে নিয়ে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল, সেই নাতনির সুস্থতার আশায় এখন হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন দাদু। তাঁর চোখের জল থামছে না। অন্য দিকে, মেয়ের এই পরিস্থিতির কথা ভেবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা অনন্যা। পরিবারের কাছে উৎসবের সমস্ত আনন্দ এখন ঢাকা পড়েছে দুশ্চিন্তা আর আতঙ্কে। একটাই চাওয়া ছোট্ট দৃশানীকে সুস্থ অবস্থায় নিয়ে যেন তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারে।
