
কাঁঠালিয়ায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বিশখালী নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ ইলিশ ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা এসব জাল প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করে উপজেলা প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার দিনব্যাপী কাঁঠালিয়া উপজেলার বিশখালী নদী ও এর আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এ তৎপরতা চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নদী থেকে অবৈধ জালগুলো জব্দ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন। তাঁর উপস্থিতিতে জব্দ করা জালগুলোতে আগুন ধরিয়ে ধ্বংস করা হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, মা ইলিশ রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সরকারি এই বিশেষ নিষেধাজ্ঞা ও সংরক্ষণ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
অভিযানের বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন, "দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের অবস্থান শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স)। নিষিদ্ধ কারেন্ট ও অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের এ ধরনের কঠোর তদারকি ও অভিযান পুরো অভিযানজুড়ে অব্যাহত থাকবে।"
আজ বিকেলে প্রকাশ্যে জাল ধ্বংস করার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন কবির হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. কিশোর মাহমুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাছিব ভুট্টো আকন, মরিচবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত আলী জমাদ্দার এবং ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব খান।
অভিযান ও জাল ধ্বংসকালে স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
