আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধির প্রভাবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সামান্য বাড়াতে পারে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। তবে সার্বিক অর্থনীতিতে মূল মূল্যস্ফীতির বড় কোনো পরিবর্তন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আর্থিক পদক্ষেপে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত মাসেই নীতি সুদহার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জাপানি মুদ্রা ইয়েনের আকস্মিক পতন ঘটে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে না দিলে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে এই বৈঠকের পর প্রকাশিতব্য ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির ওপর কড়া নজর রাখার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করবে বিওজে, যার মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই আবারও সুদহার বাড়ানোর সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হবে।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “ভোক্তা মূল্যস্ফীতির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকতে পারে, তবে মূল মূল্যস্ফীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।” পরবর্তীতে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাব্য সময় প্রসঙ্গে অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “মূল্যস্ফীতির চাপ বিদ্যমান থাকলেও তা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়নি, ফলে এ নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কারণ নেই।”
এর আগে গত জুলাই মাসে দেওয়া পূর্বাভাসে ২০২৭ সালের মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এর পরবর্তী অর্থবছরে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশে নামার প্রক্ষেপণ করেছিল ব্যাংক অব জাপান। জ্বালানি তেলের সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমে আসবে এমন অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ওই হিসাব করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নতুন করে চড়ে যাওয়ায় চলতি মাসের প্রতিবেদনে ২০২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতিতে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন আসতে পারে। নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এ সংশোধন সীমিত পরিসরেই থাকবে; কারণ অর্থনীতিতে মজুরি ও পণ্যের মূল্যের বিপজ্জনক কোনো নেতিবাচক প্রভাব এখনও তৈরি হয়নি।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আগের পূর্বাভাসের কাছাকাছি অবস্থানেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট পণ্যের শক্তিশালী রপ্তানি ভরসা জোগানোয় ২০২৬ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা বহাল থাকতে পারে। এছাড়া আগামী বছরের এপ্রিল থেকে খাদ্যপণ্যে দুই বছরের জন্য প্রস্তাবিত ভোগ কর হ্রাসের উদ্যোগটি এখনও পার্লামেন্টে পাস না হওয়ায় তা আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাসে যুক্ত করা হচ্ছে না।
ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, দুর্বল মুদ্রা এবং এআই খাতের বাড়তি চাহিদার কারণে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ১ অক্টোবরের প্রকাশিত ত্রৈমাসিক জরিপ অনুযায়ী, করপোরেট পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা নতুন করে গতি পায়নি। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের পূর্বাভাস, আগামী বছরের জুনের মধ্যে ব্যাংক অব জাপান তাদের নীতি সুদহার দুবার বাড়িয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করতে পারে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তা ১ দশমিক ৭৫ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করবে।
