Published on
:
2 min read
এই সময়, জলপাইগুড়ি: শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে ৭৮ বছর আগে, ১৯৪৯–এ। দেশ ভাগের পরে ওপার বাংলা থেকে আসা আসা ৩০টি ছিন্নমূল পরিবার শুরু করেন পুজো। সাত দশক পেরিয়ে সেই পুজো এখন ওই ৩০টি পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের হাতে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩০টি পরিবারের বাইরেও অারও অনেক পরিবার যুক্ত হয়েছে। ৩০ পরিবার এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৪–তে। কিন্তু রীতি ও নিয়ম একই আছে। নবমীর দিন এলাকার সকলকে নিয়ে ভোগ খাওয়া বজায় রয়েছে। আবার হারিয়েছেও কিছু জিনিস। যেমন, পুজোর তিনদিন আগে হ্যাজাক জ্বালিয়ে যাত্রা পালার আসর বসান হতো স্থানীয় কলাকুশলীদের নিয়ে। ১৯৭১–এর পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।
তবে এখনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। পঞ্চমীতে পুজো উদ্বোধনের পরে পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন জলপাইগুড়ি শহরের পুরাতন পুলিশ লাইন দুর্গাপুজো কমিটির বর্তমান সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বাপ–ঠাকুরদারা যে ভাবে পুজো করতেন, ঠিক একই ভাবে এখন তাঁরা পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।
জলপাইগুড়ি শহরের নাম করা থিম পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম পুরাতন পুলিশ লাইনের পুজো। এ বছর তাদের থিম বন্দেমাতরমের সার্ধ্বশত বর্ষ এবং সন্ন্যাসী বিদ্রোহ। বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম গান এবং সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। মণ্ডপ সজ্জার দায়িত্বে আছেন হিরক সাহা। মৃৎশিল্পী মাধব শীল এবং আলোক সজ্জায় অর্জুন দাস। এদিন পুজো উদ্বোধন করেন ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত নার্স গীতা কর্মকার। পুজো কমিটির আহ্বায়ক অলক সুধীর সরকার বলেন, ‘১৯৪৭–এর পর পুর্ব পাকিস্থানের বিভিন্ন জায়গা ছেড়ে ৩০টি পরিবার এখানে বসবাস শুরু করেন। ১৯৪৯–এ স্বাধীনতা সংগ্রামী শশধর করের উদ্যোগে দুর্গাপুজো শুরু হয়।’
পুজো প্রথম করা হয়েছিল পুলিশ লাইন রক্ষাকালী মন্দির প্রাঙ্গণে। পরে দু’বার স্থান পরিবর্তনের পর বর্তমান জায়গাতে কয়েক দশক ধরে করা হচ্ছে। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রবীর রায় বলেন, ‘সেকালে যানবাহনের সুবিধা না থাকায় কারখানা থেকে মুটেদের দিয়ে মাচা করে প্রতিমা নিয়ে আসা হতো। কাপড় এবং টিনের চালা তৈরি করে মণ্ডপ তৈরি করা হতো।’ এই পুজোর আরেকটি বিশেষত্ব চাঁদা কাটতে বাইরে যাওয়া হয় না। এই সমস্ত পরিবারের দেওয়াও চাঁদাতেই পুজো চলে। পুজোর তিন মাস আগে ভোটের মাধ্যমে পুজো কমিটি গঠন করা হয়। শুরু থেকে চলে আসা এই নিয়ম এখনও ধরে রাখা হয়েছে।
