কালবেলা · আন্তর্জাতিক
অনুপ বিশ্বাসের স্ত্রীর ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকের মামলা
১২/১০/২০২৬

চট্টগ্রামের আলোচিত মদ ব্যবসায়ী অনুপ বিশ্বাসের স্ত্রী রমা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বিপরীতে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে বৈধ আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রমা বিশ্বাসের নামে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো এনআরবি এন্টারপ্রাইজ, পি পি স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টার ও এসআরসি কোল্ড স্টোরেজ। তার আয়কর নথি, বিভিন্ন রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা এবং সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে সম্পদ ও আয়ের হিসাব তৈরি করেছে দুদক।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত রমা বিশ্বাসের নামে ১১ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার ৮৬৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ১১ কোটি ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৩৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ২২৯ টাকা।
একই সময় পর্যন্ত ব্যবসা, গৃহসম্পত্তি ও অন্যান্য উৎস থেকে তার বৈধ আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৬ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে হিসাব করা হয়েছে ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৮ টাকা। এসব ব্যয় বাদ দেওয়ার পর সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার বৈধ আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫৮ টাকা। সম্পদের পরিমাণের সঙ্গে বৈধ আয়ের এই ব্যবধানই ১০ কোটি ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৬ টাকা বলে জানিয়েছে দুদক। তবে মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্তে অনুপ বিশ্বাস ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধান চলাকালে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট অনুপের মৃত্যু হয়। পরে তার স্ত্রীর নামে অর্জিত সম্পদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দুদক। এরপর রমা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয় কমিশনের প্রধান কার্যালয়।
অনুপ বিশ্বাস নগরের কোতোয়ালি থানার ইকবাল রোড এলাকার মৃত শচীন্দ্রলাল বিশ্বাসের ছেলে। ফিরিঙ্গিবাজারে ‘কান্ট্রি স্পিরিট শপ’ নামে তার একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান ছিল। অভিযোগ ছিল, দেশি মদ বিক্রির লাইসেন্সের আড়ালে বিদেশি মদ বিক্রি এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে দোকান খোলা রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি মাদক কারবার চালাতেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের উদ্ধার করা মাদক বিক্রির সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে।
২০২০ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীও ছিলেন অনুপ বিশ্বাস। মিষ্টিকুমড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পরাজিত হন।
দুদকের তথ্যমতে, অনুপ বিশ্বাসের পরিবারকে ঘিরে একাধিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ নগরের জামালখান এলাকায় আড়াই কোটি টাকায় রমা বিশ্বাসের জন্য একটি ছয়তলা ভবন কেনার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া ফিরিঙ্গিবাজার, পাথরঘাটা ও রহমতগঞ্জ এলাকায় তাঁদের পরিবারের নামে একাধিক ভবন ও স্থাপনার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মামলার বাদী দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗