আইটিবিপি-র প্রধান শত্রুজিৎ কাপুরের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে।
Published on
:
2 min read
অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্প্রতি বেশ কয়েক বার সংঘাতে জড়িয়েছে ভারত এবং চিনের সেনা। সেই সংঘাত এখনও থামেনি। তা অব্যাহতই রয়েছে। ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপি-র প্রধান শত্রুজিৎ কাপুরের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। যদিও এই ব্যাপারে কেন্দ্রের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আইটিবিপি জওয়ানদের সম্মান জানাতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ জানান, সম্প্রতি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) বরাবর বেশ কয়েকটি জায়গায় সংঘাতে জড়িয়েছে ভারতীয় সেনা। কিন্তু এখনও সেই সীমান্ত বিবাদের কোনও সমাধান হয়নি। শত্রুজিৎ অবশ্য আলাদা করে চিনের সেনার নাম করেননি। আইটিবিপি প্রধান বলেন, ‘গত কয়েক দিনে অরুণাচলের বেশ কয়েকটি জায়গায় মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তা এখনও চলছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, সংঘাতের সময়ে বাহিনীর শৌর্য কম্যান্ডোরা অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।
অরুণাচলে ভারত-চিনের মধ্যে সংঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব কংগ্রেস। তা নিয়ে বেশ কয়েক বার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধীও। তা কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে কখনওই প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি। কংগ্রেসের অভিযোগকেও তারা উড়িয়ে দিয়েছে। সেই বিতর্কের আবহে আইটিবিপি-র প্রধানের এই মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা শুরু হয়েছে। কারণ কিছু দিন আগেই ব্রিকস সম্মেলনে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত এবং চিন সেনার সংঘর্ষের পরে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর ছিল। সরকারি সূত্রে খবর, নয়াদিল্লিতে মোদীর সঙ্গে জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়। সেখানে আলোচনাও হয় সীমান্ত বিবাদ নিয়ে। উত্তাপ যে দু’পক্ষই কমানোর চেষ্টা করছে, সেই বার্তাও মেলে। কিন্তু শত্রুজিতের মন্তব্য ভিন্ন পরিস্থিতির আভাস পাওয়া গেল বলে মনে করছেন অনেকে।
সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের রাজনৈতিক দল ‘পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল’ (পিপিএ) দাবি করেছিল, আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং সেক্টরে ভারতীয় সেনার টহলদারিতে বাধা দিচ্ছে চিন। লাল ফৌজ ক্রমশ ওই এলাকায় ক্রমশ নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এ বার কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ মোদীকে নিশানা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সংঘাতের তথ্য গোপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে হওয়া কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
আইটিবিপি-র প্রধানের মন্তব্য বা কংগ্রেসের আক্রমণের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও, পিপিএ-র দাবির প্রেক্ষিতে আগেই বিবৃতি দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। দাবি করেছেন, ভারতের কোনও এলাকাই চিন দখল করেনি।
