অস্ত্রোপচার করে এক পুরুষের শরীর থেকে বাদ দেওয়া হল স্ত্রী অঙ্গ জরায়ু, ডিম্বাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউব। গত সোমবার ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্যজেলার অধীন ফলতার সহরারহাটের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন ২৪ বছর বয়সি বজবজের সেই বাসিন্দা। তিনি হার্নিয়া অপারেশন করতে এসেছিলেন। দেখা যায় তাঁর শরীরে স্ত্রী অঙ্গ জরায়ু, ডিম্বাশয় ও ওই দুইয়ের সংযোগকারী ফ্যালোপিয়ান টিউবের অস্তিত্ব রয়েছে। বছর দুই আগে যুবকের বিয়েও হয়েছে। এবার ওই নার্সিংহোমেই যুবকের শরীর থেকে অস্ত্রোপচার করে স্ত্রী দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি বাদ দিলেন চিকিৎসক ড: এইচ জামান।
১৮ বছর আগে মেডিকেল কলেজে পুরুষ শরীরে স্ত্রী দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সন্ধান মেলার পর এবার দ্বিতীয়বার এমন বিরল ঘটনায় তাজ্জব চিকিৎসক মহল। নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর ওই যুবক সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মঙ্গলবার যুবককে নার্সিংহোম থেকে ছাড়া হতে পারে।
জানা গিয়েছে, এই যুবকের অণ্ডকোষও নেই। পুরুষ দেহে জরায়ু ও ডিম্বনালি থাকাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘সিউডোহেরম্যাফ্রোডিটিজম।’ চিকিৎসকদের মতে, কাউকে দেখতে পুরুষের মতো হলেও জিনগত কিংবা প্রজননগত ক্ষেত্রে নারী হতে পারেন। যদিও এটি অত্যন্ত বিরল অবস্থা বলেই মত চিকিৎসকদের। তাঁদের মতে, হরমোনের অস্বাভাবিকতা, ভ্রূণের বিকাশের সময় অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাবে এমন পুরুষ শরীরে জরায়ু ও ডিম্বনালি দেখা যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবে ক্লিটোরিস স্বাভাবিকের তুলনায় বড় আকারের হয়। যা পুরুষাঙ্গের মতো দেখতে হয়। অথচ অণ্ডকোষ থাকে না। এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রথমে রোগীকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি পুরুষ নাকি নারীর জীবন বেছে নেবেন। সেই অনুযায়ী, প্রথমে কাউন্সেলিং করা হয়। পরে প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে ধাপে ধাপে চিকিৎসা এগোতে থাকে।
