জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিন শেষে ৩ ম্যাচই ড্র এর পথে। শুধু বরিশাল ও চট্টগ্রাম ম্যাচেই কেবল ফল আসার সম্ভাবনা আছে। তৃতীয় দিনে ৩ জন সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন। রাজশাহীর হাবিবুর রহমান সোহান, সাব্বির হোসেন, সিলেটের আসাদুল্লাহ আল গালিব সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়েছেন।
খুলনা-রাজশাহী
বিজ্ঞাপন
শেখ মেহেদীর সেঞ্চুরি আর বাকিদের তিন ফিফটিতে বড় লিড নিয়েই দিন শেষ করেছিল খুলনা। তবে ১ উইকেট হাতে নিয়ে তৃতীয় দিনে আর ২৪ রান যোগ করতে পারে দলটি। এতে প্রথম ইনিংসে ৪৮৪ রানে অলআউট হয় মোহাম্মদ মিঠুনের দল। ৩৬৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা রাজশাহীর তৃতীয় দিন শেষে সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩০০ রান।
এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার ৯ উইকেটে ৪৬০ রান নিয়ে দিন শুরু করা খুলনা অলআউট হয়েছে প্রথম আধাঘণ্টার মধ্যেই। রাজশাহীর হয়ে ৪ উইকেট নেন বাঁ-হাতি স্পিনার নিহাদুজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
৩৬৫ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় রাজশাহী। হাবিবুর রহমান সোহান ও সাব্বির হোসেন মিলে গড়েন ১২৬ রানের জুটি। সোহানের বিদায়ে ভাঙে সেটি। মাত্র ১০ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি। শুরু থেকে আগ্রাসী খেলতে থাকা এই ডানহাতি ব্যাটার করেন ৮৩ বলে ৬ চার ও ৮ ছক্কায় ৯০ রান।
সঙ্গী হারানোর পর নাঈম আহমেদকে নিয়ে আবার ১১৩ রানের জুটি গড়েন সাব্বির। সোহানের মতো তিনিও শেষ পযর্ন্ত পুড়েছেন সেঞ্চুরির হাতছাড়ার আক্ষেপে। ১৫২ বলে ৯ চার আর ১ ছক্কায় ৮৮ রান করেন তিনি। সাব্বিরের বিদায়ের পর নাঈমও ফেরেন মাত্র ১৩ রানের ব্যবধানে। তার ব্যাট থেকে আসে ১২৮ বলে ১১ চারে ৬৯ রান।
এরপর দিনের বাকি সময়টা সাব্বির রহমানকে নিয়েই কাটিয়ে দেন রাজশাহীর অধিনায়ক প্রীতম কুমার। দিনশেষে দুজনের জুটি ৪৮ রানের। সাব্বির ২১ আর প্রীতম অপরাজিত ২৭ রানে। খুলনার হয়ে ২ উইকেট নেন বাঁ-হাতি স্পিনার সামিউন বশির রাতুল।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা-সিলেট
নিশ্চিত ড্র-র দিকেই গড়াচ্ছে ঢাকা ও সিলেটের ম্যাচ। চারদিনের ম্যাচে তিনদিন শেষেও দুই ইনিংস শেষ হয়নি। ঢাকাকে ৫৪৭ রানে অলআউট করার পর দ্বিতীয় দিন শেষে সিলেটের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৫৪ রান। তৃতীয় দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪১৩ রান তুলেছে তারা। সিলেট এখনো পিছিয়ে ১১৬ রানে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলীয় ১০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় সিলেট। ১২৫ বলে ৬ চারে ৬০ রান করেন সৈকত আলী। ৮ রানের ব্যবধানে ফেরেন অমিত হাসানও। ৬৪ বলে ২ চারে ৩১ রান করেন তিনি। এরপর আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আশরাফুল হাসান রিহাদ মিলে গড়েন ৭৩ রানের জুটি।
দারুণ খেলতে থাকলেও সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন গালিব । ১২৪ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ব্যক্তিগত ৮৯ রানে আউট হন তিনি। তৃতীয় দিন শেষে ১৯২ বলে ১০ চারে ৮১ রান করে অপরাজিত রিহাদ। তার সঙ্গী তোফায়েল আহমেদের সংগ্রহ ১১০ বলে ৫ চারে ৫৬ রান।
বরিশাল-রংপুর
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে কেবল ফল আসতে পারে বরিশাল-রংপুর ম্যাচে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংস হারের শঙ্কায় আছে বরিশাল বিভাগ। প্রথম ইনিংসে বরিশালকে ২৮২ রানে অলআউট করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৭৬ রান করে চট্টগ্রাম ২৯৪ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে বরিশালের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে এখনো প্রয়োজন ১৪৫ রান।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার কক্সবাজার ক্রিকেট একাডেমিতে ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে চট্টগ্রাম। তবে ৮৭ রান যোগ করতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় তারা। বরিশালের হয়ে অভি আহমেদ নোবেল ৪টি আর মঈন খান নেন ৩ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ইফতিখার হোসেন ইফতি ও জাওয়াদ আবরারের ব্যাটে ভালো শুরু পায় বরিশাল। তবে উইইকেটে সেট হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি জাওয়াদ। ১০৭ বলে ৫ চারে ৪১ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ভাঙ ৯৪ রানের উদ্বোধনী জুটি।
এরপর রাফসান আল মাহমুদকে নিয়ে নতুন করে জুটি গড়া শুরু করেন ইফতি; কিন্তু দুজনের ৪৩ রানের জুটির পর আচমকাই ১২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় বরিশাল। ১৩৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭৪ রান করেন বরিশাল অধিনায়ক। দিন শেষে ৩২ রানে অপরাজিত রাফসান। চট্টগ্রামের হয়ে একাই ৩ উইকেট নেন আশরাফুল হাসান।
বিজ্ঞাপন
ময়মনসিংহ-রংপুর
দিনের আরেক খেলায় সিলেট একাডেমি গ্রাউন্ডে তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে রংপুরের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান। দলটির লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২২ রানে। এর আগে সোমবার ৬ উইকেটে ১৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহ অলআউট হয় ২৯৫ রানে। ৭৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫২ রান করেন আবু হায়দার রনি। রংপুরের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন মুশফিক হাসান, স্বাধীন ইসলাম ও ইকবাল হোসেন।
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ৫০ রানেই ২ ওপেনারকে হারায় রংপুর। এরপর ইকবাল হাসান ও অধিনায়ক আকবর আলী মিলে গড়েন ৬৫ রানের জুটি। ৮৩ বলে ৩ চারে ৩৩ রান করেন ইকবাল। এরপর আলাউদ্দিন বাবুকে নিয়ে আবার ৫২ রানের জুটি গড়েন আকবর। এরপরই আচমকা ১২ রানের মধ্য ৩ উইকেট হারায় রংপুর। ৯৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৭৪ রান করেন আকবর।
এসকেডি/আইএইচএস
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
