কালবেলা · আন্তর্জাতিক
হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের
২৩/১০/২০২৬

ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং ইয়েমেনে তাদের সামরিক অভিযান নিয়ে নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার এ আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে গৃহীত এক প্রস্তাবে হুতিদের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখা, নেতৃত্ব এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ইইউর সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্লামেন্টের সদস্যরা। একই সঙ্গে সংগঠনটির অর্থের জোগান বন্ধ, সম্পদ জব্দ এবং তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক সম্পদ আটকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে ইইউর সব সদস্যদেশের সমর্থন প্রয়োজন হবে বলে ২০ অক্টোবর পার্লামেন্টে এক আলোচনায় জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলেছে, হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন, বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন এবং ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও বেড়েছে।
প্রস্তাবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে হুতিদের অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। এ ছাড়া হুতিদের সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ের অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন তারা। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পাশাপাশি ইইউ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের নাজরান শহরের দিকে যাওয়ার সময় আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাঁচটি, পূর্বাঞ্চলে পাঁচটি এবং দক্ষিণ সৌদি আরবে একটি ড্রোন ছিল।
তবে ২১ অক্টোবর হুতিরা মদিনার দিকে ড্রোন পাঠানো এবং ওই দিন সৌদি আরবে সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এসব হামলার দাবি করেছিল।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে হুতি ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তপারের হামলাও বেড়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
মূল প্রতিবেদনে যান ↗