বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তার দাবি, নানা পাটেকারের মৃত্যুর পর মরদেহ বলিউডের সহকর্মী কিংবা গণমাধ্যমের কেউ দেখতে পাননি। এ ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গত সোমবার রাতে ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে তনুশ্রী প্রশ্ন করেন, নানা পাটেকারের শেষকৃত্য কেন মধ্যরাতে এত দ্রুত সম্পন্ন করা হলো। এমনকি পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ ঠিকভাবে দেখতে পেরেছিলেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
গত ৮ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নানা পাটেকারের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। পুনের কাছে দঞ্জে গ্রামে তার ফার্মহাউসে একই দিন রাত ১১টা ২৮ মিনিটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়। এর আগে বাম্বোলিমের জিএমসি মর্গে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তবে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নেওয়া, ময়নাতদন্ত এবং মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এ-সংক্রান্ত কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ্যে না আসায় প্রশ্ন তুলেছেন তনুশ্রী।
ইনস্টাগ্রাম লাইভে তনুশ্রী বলেন, এত বড় একজন কিংবদন্তি অভিনেতার জন্য কোনো স্মরণসভার আয়োজন করা হয়নি। অথচ এমন আয়োজন থাকলে বলিউডের সহকর্মী ও সাংবাদিকেরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেতেন। হিন্দু ধর্মে সাধারণত সূর্যাস্তের পর দাহকার্য সম্পন্ন করার প্রচলন নেই উল্লেখ করে রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ ঢেকে রাখা মরদেহটি সত্যিই নানা পাটেকারের ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেত্রী।
তনুশ্রীর আশঙ্কা, নানা পাটেকার হয়তো এখনো জীবিত আছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে ভুয়া মৃত্যুসনদ তৈরি করে সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। অভিনেতা চেহারা পরিবর্তন করে থাকলে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করানোর দাবিও জানান তিনি। তবে তনুশ্রীর এসব দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ চলচ্চিত্রের একটি গানের শুটিং চলাকালে নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী দত্ত। পরে ২০১৮ সালে তিনি নানা পাটেকার, কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য, প্রযোজক সামি সিদ্দিকী ও পরিচালক রাকেশ সারঙ্গের নারকো অ্যানালিসিস ও লাই-ডিটেক্টর পরীক্ষা করানোর আবেদন জানান। তবে ২০১৯ সালের জুনে মুম্বাই পুলিশ নানা পাটেকারকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।
এমএ
