চকবাজারে আগুন নেভাতে গিয়ে ২ ফায়ার ফাইটার কর্মী অসুস্থ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান টাওয়ারে আগুন নেভাতে গিয়ে তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী।
তারা হলেন, জিল্লুর রহমান (৪০) ফায়ার ফাইটার ও নজরুল ইসলাম (৫০) ফায়ার ফাইটার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ণ ইউনিটে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তাদেরকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসা ঢাকা সিটি ইউনিট রেসকোর্স সেন্টারের মো. আলহা জানান, চকবাজার থানাধীন মনসুর খান টাওয়ারের ৭তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে আগুনের ধোঁয়ায় দুইজন ফায়ার ফাইটার জিল্লুর ও নজরুল আহত হন। পরে তাদেরকে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চকবাজার থেকে দুই ফায়ার ফাইটার অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে এসেছে তাদের দুজনকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছে তারা দুজন ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাদের দুজনকে অবজার্বেশনে রাখা হয়েছে।
আজিজুল হাকিম/অন্তরা/
আরও পড়ুন
সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চয়তায় যাত্রীরা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে ব্যাহত হয়েছে ৬১টি ফ্লাইট। এতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে সর্বমোট ৯ হাজার দুইশ ৬৯ জন যাত্রী।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৬১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের কাজ চলছে।
রিফাত/
আরও পড়ুন
যাত্রাবাড়ীতে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্যক্তির
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় মোল্লা কলেজের সামনে গাড়ির ধাক্কায় মোহাম্মদ ফালু মিয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় গাড়ির গ্যারেজের কর্মী ছিলেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সজিব উর রহমান জানান, খবর পেয়ে তারা যাত্রাবাড়ীর কাজলায় মোল্লা কলেজের সামনে ফালু মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, কাজলা এলাকায় যাওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় একটি দ্রুতগামী গাড়ি ফালু মিয়াকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাস্তায় পড়ে থাকলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতক গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের ভাই রতন জানান, ফালু মিয়া গ্যারেজে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার সদর এলাকায়। তিনি আব্দুল মতিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানীর পূর্ব কদমতলীর জুরাইন এলাকায় বসবাস করতেন। এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন তিনি।
আজিজুল হাকিম/রিফাত/
আরও পড়ুন
নিয়ন্ত্রণে এসেছে চকবাজারের আগুন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->প্রায় ৯ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজার আগুন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে গেছে ভবনের ছয় তলায় থাকা বিভিন্ন পণ্যের গুদাম।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনের ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা। মোগলটুলির সরু রাস্তা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়, জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
চকবাজারের মোগলটুলির মনসুর খান প্লাজার এই আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার ফাইটার ও এলাকাবাসী মিলে যোগ দেয় প্রায় আড়াইশ জন। দুজন ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয় পড়লে তাদের নেওয়া হয় হাসপাতালে।
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে ভবনের ছয় তলায় আগুনের সুত্রপাত হয়।
খবর পেয়ে ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট। ভবনটিতে ভ্যানিটি ব্যাগ, ছাতা, প্রসাধনী সামগ্রী, গ্যাসলাইটারসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারী বাজার ছিল। ভবনের ছয় তলাতে ছিল এসব পণ্যের গুদাম। আগুন লাগার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে পঞ্চম ও সপ্তম তলায়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এইখানে ব্যাগের দোকান, ছাতার দোকান ওইখান থেকে আগুনটা লাগছে। আগুন সেখান থেকে সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়।
রাতে ঘটনাস্থলে আসেন দক্ষিণ সিটির প্রশাসক। অগ্নিকাণ্ডের জন্য রাজউকের গাফিলতিকে দায়ি করেন তিনি। পানির উৎস নিশ্চিতে পুরান ঢাকার পুকুর সংরক্ষণের আশ্বাস দেন তিনি।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি আসার পর থেকে এইখানে যে কয়টা পুকুর আছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি। ড্রেনেজগুলোকে নতুন করে করার চেষ্টা করছি।’
ফায়ার সার্ভিস বলছে, ভবননের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার ঘাটতি, গুদামের দাহ্য পদার্থ এবং সরু রাস্তার কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এইখানে বিভিন্ন ধরনের গোডাউন আছে। সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এরপর আগুন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায়। এইখানে সরু রাস্তাঘাট থাকার ফলে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে।
আগুনের কারণ নির্নয় ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
রিফাত/
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজায় সারাদেশে মোতায়েন থাকবে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন থাকবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বাসসকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।’
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিজিবি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল ও সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিজিবি প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকবে।’
রিফাত/
