রাজধানীর পল্টনে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী ‘৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ প্রতিযোগিতা।
এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৮৮টি দল থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৬১৬ জন শাটলার অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৩৫ জন পুরুষ ও ৮১ জন নারী খেলোয়াড়। প্রতিযোগিতায় মোট ১০ লাখ টাকা প্রাইজমানি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের জন্য বিশেষ পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি ইলেকট্রিক বাইক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে এত বিপুলসংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক মাইলফলক। এ অর্জনের কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তিনি খেলোয়াড়, গণমাধ্যমকর্মী, অভিভাবক এবং দূরদূরান্ত থেকে সন্তানদের নিয়ে আসা ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
দেশজুড়ে খেলাধুলার প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক বা শীতকালীন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি জেলা, পাড়া ও মহল্লায় সারা বছর ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের অধীনে প্রতিটি জেলায় পৃথক কমিটি গঠন করে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে সারা দেশে একযোগে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এ কার্যক্রমে ব্যাডমিন্টনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া আগামী জানুয়ারি থেকে ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, হকি, আর্চারি ও শুটিংসহ বিভিন্ন নির্বাচিত খেলায় বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
ব্যাডমিন্টনের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ খেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য দেশের মাটিতে অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, বিদেশি দল আমন্ত্রণ এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বিদেশের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লে দেশের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়বে। একই সঙ্গে তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
খেলোয়াড় ও সংগঠকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খেলাধুলায় হার-জিত থাকবেই। পরাজয়ে হতাশ হয়ে খেলা থেকে দূরে সরে না গিয়ে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দেশপ্রেমকে ধারণ করে খেলাধুলায় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খান। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
