সাগরের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নিয়েছে পরিবারের ১৬ বছরের সন্তান আলবার্টকে। আকস্মিক নৌকাডুবিতে মৃত্যুর সেই শোক বুকে নিয়েই কক্সবাজারে কেটেছে নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবারের তিন সদস্যের দীর্ঘ ৫০ দিন।
অবশেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারা। তবে সাগরের সেই ভয়াল স্মৃতি আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা নিয়েই তাদের ফিরতে হচ্ছে আপন ঠিকানায়।
গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের সোনাদিয়া চ্যানেলের মোহনায় নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া একই পরিবারের তিন সদস্য ৫০ দিন ধরে অবস্থান করছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল শৈবালে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা পুলিশের নিরাপত্তায় তাদের থাকা, খাওয়া ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের তিন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন তারা।
জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিউজিল্যান্ডের একই পরিবারের চার সদস্য কাঠের তৈরি একটি অননুমোদিত নৌকায় করে কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূল থেকে সোনাদিয়া দ্বীপের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে সোনাদিয়া চ্যানেলের মোহনায় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি উল্টে গেলে চারজনই সাগরে পড়ে যান।
এ সময় আশপাশে থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে এসে দুই নারীসহ তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড, ৩৬ বছর বয়সী বেলা ও ১৩ বছর বয়সী রালফ।
কিন্তু পরিবারের ১৬ বছর বয়সী সদস্য আলবার্টের খোঁজ মিলছিল না। স্বজনদের অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে পরদিন ২৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে। নাজিরারটেক সমুদ্র উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয় কিশোর আলবার্টের মরদেহ।
পরে পুলিশি সুরতহাল ও ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার বাবা এডওয়ার্ড পাডনির কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় পরিবারের এক তরুণ সদস্যকে, রেখে যায় অপূরণীয় শূন্যতা।
দুর্ঘটনার পর বিপর্যস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। নিরাপদ আবাসন, খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। গত ২৬ আগস্ট থেকে তারা হোটেল শৈবালে অবস্থান করছিলেন।
অবশেষে ৫০ দিনের অবস্থান শেষে কক্সবাজার ছাড়লেন পরিবারের তিন সদস্য। তাদের এই বিদায় শুধু একটি শহর ছেড়ে চলে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাগরের বুকে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনা আর কঠিন এক সময় পার করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
