পুজোর অভিনব রীতি
ভূপালপুর রাজবাড়ির পুজোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রথা ছিল মহালয়ার দিন থেকেই দেবীর আরাধনা শুরু হওয়া। একসময় মহালয়াতেই দেবীর বোধন হতো। সেই সঙ্গে জোড়া মহিষ ও পাঁঠা বলির প্রথাও প্রচলিত ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পুজোর রীতিতে বদল এসেছে। বর্তমানে ষষ্ঠীর দিন দেবীর বোধন হয়। সময়ের দাবি মেনে বলিপ্রথাও বন্ধ হয়েছে আজ। কিন্তু পুজোর নিয়ম-নিষ্ঠা আগের মতোই বজায় রয়েছে।
দেবীর মূর্তিতেও রয়েছে বিশেষত্ব
এই রাজবাড়ির দুর্গাপ্রতিমার সাজ ও গঠনে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। এখানে একচালার ডাকের সাজের প্রতিমা তৈরি করা হয়। দেবীর মাথার উপরে অধিষ্ঠান করেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর— ত্রিদেব। অসুরের গায়ের রং ঘন সবুজ। প্রতিমার এই বিশেষত্বই ভূপালপুর রাজবাড়ির পুজোকে অন্য অনেক সাবেকি পুজোর থেকে আলাদা করে তোলে।
নবমীর ভোগ ঘিরে রয়েছে অভিনব প্রথা
ভূপালপুর রাজবাড়ির পুজোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় রীতি নবমীর ভোগ ও প্রসাদী ফল ঘিরে খেলা। নবমীর পুজো শেষ হলে ভোগ ও প্রসাদী ফল ঠাকুরদালানের উঁচু জায়গায় বেঁধে রাখা হয়। এরপর পরিবারের সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দারা সেই ফল পেড়ে নেওয়ার খেলায় মেতে ওঠেন। কে কতটা ফল সংগ্রহ করতে পারলেন, তা নিয়েই তৈরি হয় আনন্দের পরিবেশ। এই ব্যতিক্রমী রীতিই পুজোর আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
পুজোয় যাত্রা, থিয়েটার থেকে দশমীর মেলা
একসময় মহালয়া থেকেই রাজবাড়ির পুজোকে কেন্দ্র করে যাত্রাপালা, থিয়েটার ও সার্কাসের আসর বসত। এলাকার হাজার হাজার মানুষের জন্য ভোজনের ব্যবস্থাও করা হতো। দূরদূরান্ত থেকে অনেকে গোরুর গাড়িতে চেপে পুজো দেখতে আসতেন। সময়ের সঙ্গে সেই আয়োজন অনেকটাই কমেছে। তবু পুজোকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের উৎসাহ কমেনি। দশমীতে এখানে বড় মেলা বসে, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঐতিহ্য ও সময়ের পরিবর্তনকে সঙ্গে নিয়ে আজও এগিয়ে চলেছে ভূপালপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। পুরোনো বলিপ্রথা বন্ধ হলেও সাবেকি প্রতিমা, পারিবারিক রীতি, নবমীর ভোগের খেলা এবং দশমীর মেলা— সব মিলিয়ে এই পুজো উত্তর দিনাজপুরের এক উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্য।
