ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
-->জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানেরও উদ্বোধন করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। উদ্যানের পাশে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহিদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
আধুনিকায়িত হলো ওসমানী উদ্যান
রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।
উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে। সূত্র: বাসস
সালমান/
আরও পড়ুন
জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু ১ এপ্রিল, চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বাংলাদেশ-জাপান দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নতুন চুক্তি ইএসডিপি-এমওসি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান আর চুক্তির কার্যকর মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রায় এক বছরের প্রচেষ্টার পর গত ১৭ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির পূর্ণ নাম ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ (ইএসডিপি-এমওসি)।
আরও পড়ুন
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব। অন্যদিকে, জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রণালয়ের মতে, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এ চুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। এ মেয়াদ শেষ হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন হবে। ফলে চুক্তিটির মোট কার্যকর মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে কর্মীরা উচ্চ বেতন পাওয়ার পাশাপাশি জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগও পেতে পারেন।
অন্তরা/
আরও পড়ুন
বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, কমবে দিন-রাতের তাপমাত্রা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দেশজুড়ে কোথাও আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব কথা বলা হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যার মধ্যে দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
এদিকে, তাপমাত্রার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্তরা/
আরও পড়ুন
শিশু হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় বৈষম্য চিকিৎসক-কর্মীদের শৌচাগার পরিচ্ছন্ন, অন্যগুলো অপরিচ্ছন্ন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->‘পইড়া মাথা ফাটবো, সাবধানে, সাবধানে’, ‘বাচ্চাটাকে ধরে ধরে নেন, পড়ে যায় না যেন’–এমন নানা সতর্কবার্তায় একে অপরকে সাবধান করছিলেন সেবাপ্রার্থী শিশুদের অভিভাবকরা। গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর শের-ই-বাংলানগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগের শৌচাগারের সামনে এ দৃশ্য দেখা যায়।
টাইলস করা মেঝে স্যাঁতসেঁতে কাদাময় থাকায় এমন সতর্কতা এখানে আসা একে অপরের প্রতি। আগেরদিন গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে নিজের কক্ষে ধূমপান করতে দেখেন। পাশাপাশি কক্ষের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার মধ্যেই গতকাল রবিবার হাসপাতালে গিয়ে এমন অপরিচ্ছন্নতা লক্ষ করা যায়।
তবে এ সময় ‘ডাক্তার ও নার্সদের জন্য’ নির্ধারিত শৌচাগার তুলনামূলক পরিষ্কার দেখা যায়। বহির্বিভাগের দক্ষিণ পাশের একতলা ভবনে ডাক্তার ও নার্সদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারে গিয়ে দেখা যায়–হাই কমোড ও লো কমোড আছে। তা ছাড়া ফ্ল্যাশ, সিট কাভার মোছার তোয়ালে সবকিছুই ছিল ঠিকঠাক। এক্সহস্ট ফ্যান চলছিল অবিরত, মেঝে ছিল শুকনো।
আরও পড়ুন
যদিও এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই বাম পাশে প্রথম ভবনে ঢুকেও সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারের অপরিচ্ছন্নতা লক্ষ করা যায়। নিচতলায় শৌচাগারের ভেতর কোথাও পড়ে আছে শিশুদের ব্যবহৃত ডায়াপার, টিস্যু পেপার, মলের ছিটেফোঁটা ইত্যাদি। ফ্ল্যাশ নেই। অনেক পুরোনো হওয়ায় পানির কল থেকে সরু ধারায় অনবরত পানি পড়ছিল। মেঝে মোছার ময়লা ও ভেজা সরঞ্জাম সেখানেই রাখা। বেসিন নেই। হাই কমোড তো নেই।
এখানে ‘ক্যাশ কাউন্টার’ ও পূবালী ব্যাংকের একটি উপশাখায় বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততা। এখানেই কথা হয় সাইদুর রহমানের সঙ্গে। তার ১০ মাস বয়সী সন্তান সাইরিন আক্তার হাম ওয়ার্ডের ২ নম্বর শয্যায় ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
তিনি বললেন, এখানকার নার্সদের কিছু জিজ্ঞেস করলে বিরক্ত হন। বিশেষ করে নাইট ডিউটি করা নার্সদের সঙ্গে তো কথাই বলা যায় না। আমরাও কিছু বলি না, কারণ আমাদের বাচ্চার যদি কোনো ক্ষতি হয়, যদি তারা আরও অবহেলা করেন।
আরেক অভিভাবক কফিল উদ্দিন বলেন, এখানে মানুষের তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা অনেক কম। যা আছে তার মধ্যে অনেকগুলো আবার ভাঙাচোরা, তাই বন্ধ করে রেখেছে।
বেলা ১টার দিকে টিনশেডের নিচে খোলা জায়গায় একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ঝাড়ু দিতে দেখা যায়। ঝাড়ু দেওয়ার ফলে ধুলাবালি উড়তে থাকায় অনেকে অস্বস্তিতে পড়েন। কেউ কেউ নাক-মুখ ঢাকার চেষ্টা করেন, কিন্তু শিশুরা থাকে অরক্ষিত। তারা ধুলাবালির ওড়াউড়ির মধ্যেই হাঁটাচলা ও দৌড়াদৌড়ি করছিল।
কাছেই ময়লার স্তূপ দেখিয়ে অভিভাবকদের কেউ কেউ বলছিলেন, এভাবে খোলা জায়গায় ময়লা স্তূপ করে রাখা তো সবার জন্যই ক্ষতিকর। বিশেষ করে এটা যেহেতু শিশুদের হাসপাতাল, যেকোনো সময় যেকোনো শিশু গিয়ে ময়লার স্তূপ থেকে একটা চিকিৎসা বর্জ্য হাতে নিয়ে নিতেই পারে। তা ছাড়া খোলা জায়গায় হওয়ায় বাতাসের সঙ্গেও রোগ-জীবাণু ছড়াতে পারে। ফলে সুস্থ মানুষও এখানে এসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।
এ ছাড়া হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি ক্যান্টিনে প্রকাশ্যে সিগারেট বিক্রির অভিযোগ অনেক পুরোনো।
সেখান থেকে সিগারেট কিনে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে করিডোরে ধূমপান করতেও দেখা যায়। আইসিইউ ও এনআইসিইউর মতো স্পর্শকাতর বিভাগের কাছাকাছি ধূমপানের অভিযোগও আছে।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বশির উদ্দিন গতকাল রবিবার তার কার্যালয়ে দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, বাথরুম তো আসলে বাসাবাড়ির মতো পরিষ্কার রাখা সম্ভব হয় না। বাথরুমের কল লাগালে নতুন থাকতেই চুরি হয়ে যায়।
হাসপাতালের বিশেষায়িত ডেঙ্গু কর্নারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব শয্যায় মশারি থাকলেও অনেক শয্যায় তা টাঙানো ছিল না। ফলে মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বশির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তো মশারি টাঙাতে বলি, কিন্তু মানুষ যদি না টাঙায়, তাহলে তো আমাদের কিছু করার থাকে না।’
আরও পড়ুন
মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী আজ সোমবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজার সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সন্ধিপূজা। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, এই আচারটি সেই মুহূর্তটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন দেবী দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ড নামক দুই অসুরকে বধ করার জন্য চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেছিলেন। ঐতিহ্য মেনে বিভিন্ন মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুমারী পূজা, যেখানে দেবী দুর্গাকে ‘কুমারী’ বা পবিত্র হৃদয়ের এক কুমারী বালিকার রূপে পূজা করা হয়। রাজধানীতে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এই আচারের সময় সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী, বয়ঃসন্ধি-পূর্ব এক অবিবাহিত বালিকাকে দেবী দুর্গা তথা দিব্য নারীশক্তির জীবন্ত রূপ হিসেবে পূজা করা হয়। এ সময় ভক্তরা কুমারীর চরণে জল, বস্ত্র, ফুল এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকার নিবেদন করেন।
আরও পড়ুন
বাসস জানায়, গতকাল রবিবারও ছিল শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর শনি ও রবিবার এই দুই দিনজুড়ে ‘মহাসপ্তমী’ তিথি থাকায় এ বছর দুই দিনব্যাপী মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানীসহ সারা দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজামণ্ডপগুলোতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পূজা-অর্চনার মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী মহাসপ্তমী উদযাপন করেন। ভক্তরা দেবীর আরাধনায় পূজামণ্ডপগুলোতে দিনভর ভিড় জমান।
মহাসপ্তমীর সকালে শনিবার পূজার শুরুতেই দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। এরপর করা হয় নবপত্রিকা স্থাপন। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বৌ স্নান। এ ছাড়া দেবীর চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূজা শেষে হাতের মুঠোয় ফুল, বেলপাতা নিয়ে ভক্তরা মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে এবারের পূজার প্রথম পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন দেবীর পায়ে। জগজ্জননীর কাছে জগতের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনিতে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি সবকিছুতেই যেন ছিল একই আরতি।
মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হয় সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আগামী ২১ অক্টোবর উৎসবের সমাপ্তি।
