রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালাতে ইউক্রেনের ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধের হুমকিও দেয়া হয়েছে। ইউরোপের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ইউরোপের কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহান্তে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান জানানো হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার ও ইউক্রেনের ওপর এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানান তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করা। পাশাপাশি দেশটির জন্য মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহের একটি ব্যবস্থাও বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থা ন্যাটো পরিচালিত ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা পার্ল (পিইউআরএল) নামে পরিচিত।
পার্ল ব্যবস্থার আওতায় ইউক্রেনের মিত্রদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার অর্থ জোগায়। পরে সেসব অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হয়। এ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নিজে কোনো অর্থ দেয় না। ফলে এটি ইউক্রেনের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইউরোপের কর্মকর্তাদের একজন জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সামরিক উপদেষ্টা পাভলো পালিসার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা মস্কোর জ্বালানি খাত ও তেল সরবরাহে চাপ তৈরির একটি কৌশল। এসব স্থাপনায় হামলার ফলে রাশিয়ার তেল পরিশোধন ও জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও বিতর্ক তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মস্কোর একটি সমঝোতার আওতায় সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি বিশ্ববাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্রেতারা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন না।
